Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
১:৫৮ পিএম, ১২ জুন ২০২৬

ইতিহাস গড়ল স্পেসএক্স, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক

মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশ (আইপিও) সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার মূল্যে ৫৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার বিক্রি করে মোট ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা আইপিও ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইপিও শুধু […]

ইতিহাস গড়ল স্পেসএক্স, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশ (আইপিও) সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার মূল্যে ৫৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার বিক্রি করে মোট ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা আইপিও ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আইপিও শুধু শেয়ারবাজারের ইতিহাসই বদলে দেয়নি, বরং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে আরও এগিয়ে দিয়েছে। আইপিওর পর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

স্পেসএক্সের এই আইপিও সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর ২০১৯ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আরামকো সে সময় প্রায় ২৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। তুলনায় স্পেসএক্স একাই সংগ্রহ করেছে ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

শুক্রবার নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। বাজারমূল্যের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি জেপি মরগান, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে, মেটা, টেসলা ও আরও বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এগিয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবসার সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। বিশ্বের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্পেসএক্স পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি ও মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।

তবে সব সাফল্যের মধ্যেও কিছু বিশ্লেষক সতর্কতা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোম্পানিটির বর্তমান মূল্যায়ন অত্যন্ত উচ্চ এবং স্পেসএক্স এখনো ধারাবাহিকভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে শেয়ারের দামে বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে।

সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা প্রসেসিং সক্ষমতা বাড়াতে গুগল ক্লাউডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে স্পেসএক্স। কোম্পানিটি মহাকাশভিত্তিক ডেটা অবকাঠামো, স্টারলিংক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো মানবজাতির জন্য পৃথিবীর বাইরে বসবাসের সুযোগ তৈরি করা। মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপন, বৃহৎ মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোম্পানির দাবি, তাদের সম্ভাব্য বাজারের আকার প্রায় ২৮ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় বাজারগুলোর একটি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

একের পর এক বিজ্ঞানীর পদত্যাগে চাপে ইসরো, গগনযান মিশন রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ
২ সপ্তাহ আগে

Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ