ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর চার দিনের মাথায় বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা Anadolu Agency জানিয়েছে, ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১.৯০২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। কাতার ও আমিরাতে বড় ক্ষতি সবচেয়ে বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে কাতারের আল উদেইদ […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর চার দিনের মাথায় বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা Anadolu Agency জানিয়েছে, ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১.৯০২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে।
কাতার ও আমিরাতে বড় ক্ষতি
সবচেয়ে বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি-তে। সেখানে স্থাপিত প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি এন/এফপিএস-১৩২ প্রাথমিক সতর্কতা রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্প নগরী-তে মোতায়েন করা থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের একটি রাডার ধ্বংস হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
বাহরাইন ও কুয়েতে আঘাত
বাহরাইনে অবস্থিত United States Fifth Fleet সদর দপ্তরে হামলায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল নষ্ট হয়েছে।
এছাড়া কুয়েতে ভুলবশত বিমান প্রতিরক্ষা গুলিতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, যার ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুহরিং ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এসেছে।
দূতাবাসেও হামলার দাবি
সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় কম্পাউন্ডের ভেতরের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কুয়েত সিটির দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের কনস্যুলেট প্রাঙ্গণেও ড্রোন আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।
সামগ্রিকভাবে, মাত্র ৯৬ ঘণ্টার সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।