সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৫:৪২ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানিকে নেতানিয়াহুর আক্রমণ, বললেন ‘ইহুদিবিদ্বেষী মেয়র’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মামদানি ইসরায়েলের গাজা অভিযান নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলার পর জাতিসংঘের মঞ্চে তার সমালোচনা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু মামদানিকে সরাসরি উদ্দেশ করে বলেন, তিনি সত্য বিকৃত করছেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য […]

জাতিসংঘে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানিকে নেতানিয়াহুর আক্রমণ, বললেন ‘ইহুদিবিদ্বেষী মেয়র’

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মামদানি ইসরায়েলের গাজা অভিযান নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলার পর জাতিসংঘের মঞ্চে তার সমালোচনা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু মামদানিকে সরাসরি উদ্দেশ করে বলেন, তিনি সত্য বিকৃত করছেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। একপর্যায়ে নিউইয়র্কের মেয়রকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী মেয়র’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। তার ভাষণে তিনি বলেন, শহরটি আগের মতো নেই বলে অনেক ইহুদি তাকে জানিয়েছেন।

মামদানির সঙ্গে নিজের বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং কথা বলা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাকে কেউ চুপ করাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ওঠা গণহত্যার অভিযোগও ভাষণে প্রত্যাখ্যান করেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা ঠেকিয়েছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে।

মামদানিকে হামাসের সমর্থক হিসেবেও আখ্যা দেন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ইহুদিবিদ্বেষ বৃদ্ধির জন্য মামদানির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানকে দায়ী করার চেষ্টা করেন তিনি। এসব অভিযোগের মধ্যে মামদানির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

তবে মামদানি নেতানিয়াহুর এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নেতানিয়াহু তার ভাষণে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার জন্য ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ পুনরাবৃত্তি করেছেন। মামদানি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন, তা পরিবর্তন হয়নি।

মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তার নিউইয়র্ক সফর নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই।

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কক্ষ থেকেও বহু দেশের প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। তার বক্তব্যের শুরুতেই এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকেরা ইসরায়েলের পক্ষে স্লোগান দেন।

জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহু ও মামদানির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিউইয়র্কের রাজনীতি, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ