নিউইয়র্ক শহরে গৃহহীনদের শিবির নিয়ে অভিযোগ পেলেই সরাসরি পুলিশ পাঠানোর বদলে এখন বিষয়টি হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। নতুন ব্যবস্থায় ৩১১ নম্বরে কোনো গৃহহীন শিবির নিয়ে অভিযোগ এলে পুলিশকে সেটি নথিভুক্ত করে হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগকে জানাতে হবে। এরপর ওই বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলবেন […]
নিউইয়র্ক শহরে গৃহহীনদের শিবির নিয়ে অভিযোগ পেলেই সরাসরি পুলিশ পাঠানোর বদলে এখন বিষয়টি হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন।
নতুন ব্যবস্থায় ৩১১ নম্বরে কোনো গৃহহীন শিবির নিয়ে অভিযোগ এলে পুলিশকে সেটি নথিভুক্ত করে হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগকে জানাতে হবে। এরপর ওই বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা করবেন।
পুলিশের দায়িত্বের এই পরিবর্তনকে মামদানি প্রশাসনের গৃহহীনতা মোকাবিলার নতুন পদ্ধতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, শুধু শিবির সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সেখানে থাকা মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনা।
এর আগে মামদানি জানিয়েছিলেন, গৃহহীনদের শিবির সরানোর ক্ষেত্রে আউটরিচ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো শিবির সরানোর নোটিশ দেওয়ার পর সেখানে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আশ্রয় ও অন্যান্য সেবার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল প্রশাসন।
তবে পুলিশের সরাসরি ভূমিকা কমানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নতুন ব্যবস্থায় কিছু গৃহহীন শিবির দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে। এ নিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছাকাছি একটি গৃহহীন শিবির নিয়েও আলোচনা হয়। ৩১১ নম্বরে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে গেলেও শিবির উচ্ছেদের বদলে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানা গেছে।
মামদানি প্রশাসনের পরিকল্পনায় গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়, আউটরিচ, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থায়ী আবাসনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় এসব সেবার সঙ্গে গৃহহীনদের যুক্ত করার দায়িত্বই বেশি থাকবে সংশ্লিষ্ট সামাজিক সেবা বিভাগের ওপর।
নতুন নীতিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত আশ্রয় ও সামাজিক সেবা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের জায়গায় গড়ে ওঠা শিবিরগুলো ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে তার ওপর।