জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন অধিবেশনে জাতিসংঘের মঞ্চে মামদানির সমালোচনার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে মামদানি আবারও নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ গণহত্যার রূপকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন এবং নিউইয়র্কের […]
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন অধিবেশনে জাতিসংঘের মঞ্চে মামদানির সমালোচনার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে মামদানি আবারও নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ গণহত্যার রূপকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন এবং নিউইয়র্কের ইহুদি বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড ও মামদানির অবস্থান সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন।
নেতানিয়াহু ও মামদানির বিরোধ কয়েক মাস ধরে চলছে। এর আগে মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সামনে এনে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাব্য আইনি পথ খুঁজেছিলেন। পরে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জানায়, ওই পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নগর প্রশাসনের নেই।
মামদানি জুলাইয়ে এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার রূপকার’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আইসিসির পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানান।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গ্রেসি ম্যানশনে বৈঠকের পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মামদানিকে নেতানিয়াহুর মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। ইহুদি নিউইয়র্কবাসীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর ভূমিকার সমালোচনা করেন।
এ সময় গাজায় নিরাপদ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত আল-মাওয়াসিতে ১১ বছর বয়সী এক বালক নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন মামদানি। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় শিশুটি ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিল। তবে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
জাতিসংঘের এবারের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর বক্তব্য ঘিরেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৫ সালের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের সময় সাধারণ পরিষদের হল থেকে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডানন। তিনি অবশ্য বলেছেন, নেতানিয়াহু এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে অভিজ্ঞ এবং প্রতিবাদ হলেও নিজের বক্তব্য দেবেন।