সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১০:১৫ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২৫

জাপানে নারীর রাজনীতিতে প্রবেশ বিয়ের প্রথা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার ছায়া

জাপান, উন্নত দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকলেও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও লিঙ্গভিত্তিক সমতার ক্ষেত্রে এখনও অনেক দূর এগোতে হবে। দেশে নারীদের ওপর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা এতটাই দৃঢ় যে, ‘রাজনীতি করলে বিয়ে হবে না’— এমন কড়া মন্তব্য অনেক সম্ভাবনাময়ী নারী রাজনৈতিক নেতাকে নিরুৎসাহিত করে। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো নারী নেতৃত্বের বিকাশে বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করছে। সামাজিক প্রত্যাশার […]

জাপানে নারীর রাজনীতিতে প্রবেশ বিয়ের প্রথা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার ছায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

জাপান, উন্নত দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকলেও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও লিঙ্গভিত্তিক সমতার ক্ষেত্রে এখনও অনেক দূর এগোতে হবে। দেশে নারীদের ওপর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা এতটাই দৃঢ় যে, ‘রাজনীতি করলে বিয়ে হবে না’— এমন কড়া মন্তব্য অনেক সম্ভাবনাময়ী নারী রাজনৈতিক নেতাকে নিরুৎসাহিত করে। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো নারী নেতৃত্বের বিকাশে বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করছে।

সামাজিক প্রত্যাশার বাঁধনে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ

স্থানীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে বিদেশ থেকে ফিরে আসা মাকোতো সাসাকি তার নিজ শহর মিয়াকোয় রাজনীতিতে যোগ দিতে চাইলেও সামাজিক মনোভাব তাকে বাধাগ্রস্ত করে। তিনি জানান, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার সময় ‘তুমি এত কঠোর পরিশ্রম করলে বিয়ে করতে পারবে না’ এমন বক্তব্য শুনতে হয়েছে। এমন সামাজিক হীনমন্যতা তাকে বেশ ব্যথিত করেছে। ২৭ বছর বয়সে নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিয়াকোর ২২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে একজন নারী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। তবে সেখানে আজও মাত্র তিনজন নারী নেতৃত্বে আছেন।

তবে শুধু বিবাহিত নারীরাই নয়, সিঙ্গেল নারীরাও রাজনীতিতে প্রবেশে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। টোকিওর কাছাকাছি আতসুগি শহরের ৩৪ বছর বয়সি কাউন্সিলর এরিকা সুমোরি এমনই একজন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে তার সিঙ্গেল মাদার হওয়ার তথ্য লুকাতে বলা হয়েছিল, কারণ তার শহরের রক্ষণশীল সমাজ এ বিষয়টি গ্রহণে প্রস্তুত নয়। এরিকা চান নারীরা সামাজিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী: নতুন নেতৃত্বের পুরোনো মনোভাব?

সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচির নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করেন, তার রক্ষণশীল মনোভাব নারীর সমতার পথকে খুব বেশি পরিবর্তন করবে না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নারীদের সমতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও মাত্র দুজন নারী মন্ত্রী নিয়োগ করেছেন, যা তার ঐতিহ্যবাহী চিন্তা ভাবনার পরিচায়ক।

লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের প্রভাব ও নারীর দৈনন্দিন জীবন

জাপানে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের কারণে নারীদের ওপর ঘরের কাজের বোঝা অনেক বেশি। ২০২১ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নারীরা ঘরের কাজ, শিশু যত্ন এবং কেনাকাটায় গড়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষের সময় মাত্র দুই ঘণ্টা। এই ভারসাম্যহীন দায়িত্ব নারীদের পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবনে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে বাধা সৃষ্টি করে।

নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ধীরে ধীরে অগ্রগতি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ২৩ শতাংশের বেশি নারী ছিলেন, যা ২০০৫ সালের ১৩ শতাংশ থেকে অনেকটাই বেড়েছে। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ?

জাপানের মতো উন্নত দেশেও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা ও সামাজিক কুসংস্কারের অস্তিত্ব প্রমাণ করে, গ্লোবাল লেভেলে লিঙ্গ সমতা অর্জন কতটা জটিল। নারীর ক্ষমতায়ন শুধু তাদের ব্যক্তিগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করে না, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জাপানের এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য দেশের নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ