সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৪:৩৯ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার চান শহীদ পরিবার-আহতরা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা এবং আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আইনি হয়রানি ও হুমকি থেকে তাঁদের সুরক্ষার দাবিও জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সঙ্গে […]

জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার চান শহীদ পরিবার-আহতরা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা এবং আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আইনি হয়রানি ও হুমকি থেকে তাঁদের সুরক্ষার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় এসব দাবি ওঠে। বৈঠকে মোট ৬৩ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তির দাবি জানান। অনেক পরিবার এখনো বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকি পাচ্ছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত করা, আহতদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জুলাই যোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি উঠে আসে।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি এসেছে। কেউ কেউ বিষয়টি সংবিধানের প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কমিটি জানিয়েছে, সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায়, বিশেষ করে তফসিলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলো যেভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি বলেও জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পক্ষ থেকে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবিও এসেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের, শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার দ্রুত করার দাবি জানানো হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলছে এবং আদালত আইন অনুযায়ী কাজ করবে। তদন্ত, রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা ও অভিযোগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত সহযোগিতা করবে। দণ্ডবিধির অধীনে অন্যান্য আদালতে চলমান মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তদারকির দাবি এসেছে বলে জানান তিনি।

জুলাই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পাঠ করা ঘোষণাপত্রটি দীর্ঘ ছয় থেকে সাত মাসের আলোচনা ও চর্চার পর প্রণীত হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বীকৃত অনেক বিষয় রয়েছে। তাই এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও সংবিধানে আসবে বলে জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটটি আইনি গণভোট হলেও সাংবিধানিক গণভোট ছিল না। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তন বা সংযোজন করা হবে, সেগুলো কার্যকর করার আগে সাংবিধানিক গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে গণভোটের বিষয়টি সামনে আসবে বলেও জানান তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে সেটি সহজে পরিবর্তন করা না যায়, সে জন্য জনগণের অনুমোদনের বিধান রাখার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, কারা এতে থাকবেন এবং কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান কমিটির সভাপতি। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আইনজীবী, বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে একাধিক পদ্ধতি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব কমিটি গ্রহণ করেনি বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। অতীতে এ নিয়ে বিতর্ক থাকায় রাষ্ট্রপতিকে এই ব্যবস্থায় না রাখাই ভালো বলে কমিটির অবস্থান বলে জানান তিনি।

বিরোধী দলের লং মার্চ কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি জাতীয় সংসদেই আলোচনা করা হবে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিশেষ কমিটির ছয়টি বৈঠকে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান কমিটির সভাপতি। আরও অংশীজনের মতামত নেওয়ার পর কমিটিতে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, নূরুল হক ও সাকিলা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ