সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৫:০২ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন চালু হলে নতুন বিয়ের আগে জানা যাবে আগের বিয়ের তথ্য

অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে কোনো ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কি না, করলে কতবার করেছেন এবং নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সালিশি পরিষদের (আরবিট্রেশন কাউন্সিল) অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) ‘অনলাইনে […]

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন চালু হলে নতুন বিয়ের আগে জানা যাবে আগের বিয়ের তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

-সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে কোনো ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কি না, করলে কতবার করেছেন এবং নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সালিশি পরিষদের (আরবিট্রেশন কাউন্সিল) অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক ১০ দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন চালু হলে তথ্য গোপন করে বিয়ে করা, গোপন বিয়ে এবং পরবর্তী সময়ে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে বিবাহসংক্রান্ত অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও অননুমোদিত বহুবিবাহ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

তিনি বলেন, কোনো নারী বা পুরুষ সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর আগের বিয়ের তথ্য জানতে পারবেন। এতে বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং সামগ্রিকভাবে বহুবিবাহের প্রবণতা কমাতে সহায়তা করবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি সমন্বিত ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে, এমনকি বিদেশ থেকেও, প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো নাগরিকদের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা। এর মাধ্যমে প্রতিবছর কতটি বিয়ে হচ্ছে, বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে কি না এবং বিয়েসংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা যাবে। এতে এ ধরনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার সম্ভাবনাও কমবে। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কারও বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনে নিবন্ধিত তথ্য যাচাই করতে পারবে।

পর্যায়ক্রমে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টসহ অন্যান্য সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারি তথ্যব্যবস্থা সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত হলে নাগরিকের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। বিশ্ব দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই বাংলাদেশকেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে।

‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে পাঁচটি জেলার ২৭ জন বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক বা নিকাহ রেজিস্ট্রার অংশ নিচ্ছেন।

প্রশিক্ষণে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি, নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজেরা দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার অন্য নিকাহ রেজিস্ট্রারদেরও প্রস্তুত করবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিয়মনীতি অনুসরণ করে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হলে দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন এবং পদায়ন নিয়ে তদবিরের সুযোগ কমবে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তাদের উত্তরসূরিরা যাতে এই পেশায় আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান, সে লক্ষ্যে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও এসএম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শামীমা আফরোজ, প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ