কুমিল্লা নগরের কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ। বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতিতে বন্ধুদের সঙ্গে খাবার কিনতে বের হয়ে পথচারী হিসেবে ঘটনাস্থলে পড়েছিল সে। সংঘর্ষের সময় ছোড়া একটি গুলি তার পিঠে বিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত ইথানকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ […]
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা নগরের কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ। বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতিতে বন্ধুদের সঙ্গে খাবার কিনতে বের হয়ে পথচারী হিসেবে ঘটনাস্থলে পড়েছিল সে। সংঘর্ষের সময় ছোড়া একটি গুলি তার পিঠে বিদ্ধ হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত ইথানকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ইথান কাটাবিল এলাকার বাসিন্দা ইউনুস মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীর পিঠে লাগা গুলিটি ফুসফুসেও আঘাত করেছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাইফুল মালিক জানিয়েছেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক টিম ঘটনাটি তদন্ত করছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাটাবিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার রাত থেকেই স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। রাতভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, স্থানীয় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।
বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদ এবং এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনের আয়োজন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে সশস্ত্র কয়েকজন সেখানে হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ঠিক সেই সময় টিফিনের জন্য স্কুল থেকে বাইরে বের হয়েছিল ইথান। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়।
এই ঘটনায় দুই পক্ষের আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা এবং এক স্কুলছাত্রের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদককেন্দ্রিক বিরোধ চললেও তা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার দাবি, বুধবার রাতের ঘটনার পর আরও কঠোর অভিযান চালানো হলে পরদিনের এই সংঘর্ষ এড়ানো যেত।
তবে পুলিশের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সন্তানের এমন অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন ইথানের মা সোনিয়া আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সকালে ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় স্কুলে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে হাসপাতালের বেডে দেখতে হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।