সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৫০ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৫

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা: “কিছু না করেই নোবেল পেয়েছিলেন ওবামা”

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, ওবামা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কোনো কার্যকরী কাজ না করেই, বরং দেশের জন্য ক্ষতিকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প আবারও রাজনৈতিক মঞ্চে আলোড়ন তুলেছেন। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাত্র আট মাসের মধ্যে বারাক ওবামাকে নোবেল শান্তি […]

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা: “কিছু না করেই নোবেল পেয়েছিলেন ওবামা”
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, ওবামা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কোনো কার্যকরী কাজ না করেই, বরং দেশের জন্য ক্ষতিকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প আবারও রাজনৈতিক মঞ্চে আলোড়ন তুলেছেন।

২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাত্র আট মাসের মধ্যে বারাক ওবামাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। তখন এ সিদ্ধান্ত অনেকেই অপ্রত্যাশিত ও বিতর্কিত মনে করেন। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, এটি ছিল এক ধরনের ‘অত্যন্ত আগাম’ স্বীকৃতি এবং নোবেল কমিটির মানদণ্ড আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। ওবামার সেই সময়কার শান্তির প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি অনেকের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট বা দৃঢ় মনে হয়নি।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে জানান, এসব কাজ তিনি পুরস্কারের আশায় করেননি। ট্রাম্প আরও বলেন, “ওবামা কিছুই না করে নোবেল পেয়েছিলেন। তিনি জানতেনই না কেন তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন। শুধু নির্বাচিত হওয়াই ছিল মূল কারণ। আর তারা ওবামাকে দিয়েছে শুধুমাত্র আমাদের দেশ ধ্বংস করার জন্য।”

ট্রাম্পের ভাষায়, ওবামার পদক্ষেপগুলো দেশের জন্য ক্ষতিকর ছিল, যা তিনি নোবেল পুরস্কার দিয়ে প্রশংসা করা ঠিক হয়নি। এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ওবামার নীতিগুলোকে খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন।

ট্রাম্প জানুয়ারি মাসে ওভাল অফিসে ফিরে আসার পর থেকে নরওয়ের পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (Oslo) প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠান নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রার্থীদের মূল্যায়ন করে থাকে। ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টা মোটেও গোপন ছিল না এবং তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে শান্তির অন্যতম পুরস্কারপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

গত মাসে জাতিসংঘে তার ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাতটি প্রবল যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। এই দাবি অনেকের কাছে অতিরঞ্জিত মনে হলেও, ট্রাম্প নিজের কৃতিত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কখনোই পিছপা হননি।

এই বিতর্ক শুধু দুই জন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে মতবিরোধ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো মর্যাদাপূর্ণ সম্মান নিয়ে এমন বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

পাঠকদের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্ব বহন করে কারণ এটি শুধু এক ব্যক্তি বা পুরস্কারের কথা নয়; এর মাধ্যমে বোঝা যায় কীভাবে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের অর্জন এবং প্রতিপক্ষদের কর্মকাণ্ড উপস্থাপন করে থাকেন। এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই বিতর্ক শুধু নীতিগত মতবিরোধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহাওয়ায় ব্যাপক প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যক্রম ও তাদের আন্তর্জাতিক কূটনীতির মূল্যায়ন আরও গভীরভাবে হবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: এনডিটিভি নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, নরওয়ে পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ