ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের পার্শ্ব বৈঠকে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই তহবিল কৃষি খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রোববার (১২ অক্টোবর) আইএফএড প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন […]
ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের পার্শ্ব বৈঠকে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই তহবিল কৃষি খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোববার (১২ অক্টোবর) আইএফএড প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন ড. ইউনূস। বৈঠকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন ও সামাজিক ব্যবসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বর্তমান সময়ে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ বান্ধব কৃষি পদ্ধতি চালু করতে সক্ষম। এদের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করলে তারা সহজে অর্থায়ন পাবে এবং নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারবেন।
ড. ইউনূসের তথ্যমতে, সামাজিক ব্যবসা হল এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল যা লাভের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যার সমাধানেও মনোনিবেশ করে। এই তহবিল তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে যেখানে তারা কৃষি, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক খাতে নতুন উদ্যোগ শুরু করতে পারবে।
বৈঠকে শুধু সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠন নয়, আরও কিছু বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন, গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণ, আম ও কাঁঠালের রপ্তানি বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি প্রবর্তন এবং দুগ্ধ শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়। এসব ক্ষেত্র দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইএফএড প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও বৈঠকে বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার উদ্যোগে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাত এখনও একটি মূল চালিকা শক্তি। তরুণদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থানের জন্য অপরিহার্য। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে এই তরুণদের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করলে তারা আরও বেশি সফল হতে পারবে।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতির প্রচলন অত্যন্ত জরুরি। তরুণরা এই পদ্ধতি গ্রহণ করলে তারা টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। এছাড়া আম-কাঁঠালের মতো ফলের রপ্তানিতে নতুন প্রযুক্তি ও বাজার সম্প্রসারণ তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরার মাধ্যমে সম্ভব হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোববার (১২ অক্টোবর) ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে ইতালির রোমে পৌঁছান। সেখানে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক তাকে শুভেচ্ছা জানান। এবারের ফোরাম ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবং এতে খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই কৃষি ও সামাজিক ব্যবসার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সামাজিক ব্যবসায়িক তহবিল গঠনের এই প্রস্তাব দেশটির কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা রাখে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও মডেল হতে পারে।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ব্যবসার প্রসার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে আশা করা যায়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই প্রস্তাব তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং কৃষি, স্বাস্থ্য ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।