সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
২:৪৭ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কের এই শহরে বাড়ির দাম মাত্র ৮৭ হাজার ডলার, তবুও মানুষ থাকছেন না

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে আবাসন ব্যয় যখন অনেক মানুষের জন্য বড় চাপের কারণ হয়ে উঠেছে, তখন একই অঙ্গরাজ্যের ইউটিকা শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। শহরের কিছু এলাকায় বাড়ির মধ্যম দাম প্রায় ৮৭ হাজার ডলার থেকে শুরু হলেও জনসংখ্যা কমার প্রবণতা থামছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউটিকা বর্তমানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম […]

নিউইয়র্কের এই শহরে বাড়ির দাম মাত্র ৮৭ হাজার ডলার, তবুও মানুষ থাকছেন না
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে আবাসন ব্যয় যখন অনেক মানুষের জন্য বড় চাপের কারণ হয়ে উঠেছে, তখন একই অঙ্গরাজ্যের ইউটিকা শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। শহরের কিছু এলাকায় বাড়ির মধ্যম দাম প্রায় ৮৭ হাজার ডলার থেকে শুরু হলেও জনসংখ্যা কমার প্রবণতা থামছে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউটিকা বর্তমানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে পরিচিত। এলাকাভেদে শহরটির বাড়ির মধ্যম দাম প্রায় ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। তবে পুরো শহরের গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার, যা গত এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।

ইউটিকার কিছু এলাকায় ১ লাখ ডলারেরও কম দামে বাড়ি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং তিন বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুধু বাড়ির দাম নয়, জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলক কম ইউটিকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম। ভাড়ার ক্ষেত্রেও তুলনামূলকভাবে কম খরচে বাসস্থানের সুযোগ রয়েছে।

তবে সাশ্রয়ী আবাসন থাকা সত্ত্বেও ইউটিকার জনসংখ্যা কমছে। ২০২০ সালের আদমশুমারির পর শহরটির জনসংখ্যা ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। সাম্প্রতিক বছরেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ ইউটিকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে।

জনসংখ্যা কমার অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয় অর্থনীতির দুর্বল অবস্থাকে দেখা হচ্ছে। একসময় শিল্পনির্ভর শহর হিসেবে পরিচিত ইউটিকা কয়েক দশকের শিল্পায়ন-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান হারিয়েছে। বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া এবং চাকরির সুযোগ অন্যত্র চলে যাওয়ায় শহরের অর্থনৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।

শহরটির মধ্যম পারিবারিক আয় বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার ডলার। ২০২৪ সালে ইউটিকার একজন ব্যক্তির মধ্যম আয় ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৭৮৫ ডলার। একই সময়ে শহরটির দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেকারত্বের হারও প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

এ কারণে ইউটিকার আবাসন বাজারে তৈরি হয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য। কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও ভালো বেতনের চাকরি ও পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবে অনেক মানুষ শহরটিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজার কোনটি, তা বিভিন্ন গবেষণার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালের আরেকটি আবাসন বিশ্লেষণে জামেস্টাউনকে অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাড়ির মধ্যম দাম প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৯১৪ ডলার এবং মধ্যম ভাড়া ৭৫৯ ডলার।

তবে ইউটিকার ক্ষেত্রে কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি দ্রুত জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। শহরটির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়িয়ে নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করা এবং বর্তমান বাসিন্দাদের ধরে রাখা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ