নিউইয়র্ক সিটিতে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের মেয়র জোহরান মামদানির বহুল আলোচিত পরিকল্পনা এবার আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক করটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়ার পর দ্রুত আপিল করেছে মামদানি প্রশাসন। সোমবার আদালতের নির্দেশ আসার পর সিটির ল’ ডিপার্টমেন্ট রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করে। মেয়রের দপ্তরের পক্ষ থেকে […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটিতে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের মেয়র জোহরান মামদানির বহুল আলোচিত পরিকল্পনা এবার আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক করটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়ার পর দ্রুত আপিল করেছে মামদানি প্রশাসন।
সোমবার আদালতের নির্দেশ আসার পর সিটির ল’ ডিপার্টমেন্ট রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করে। মেয়রের দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপিলের নথি একই রাতেই আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
মেয়র প্রশাসনের দাবি, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকের দেওয়া সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে না। ফলে কর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি আপাতত চালিয়ে যেতে পারছে সিটি প্রশাসন।
মেয়রের মুখপাত্র বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রশাসন একমত নয়। একই সঙ্গে ‘পিয়েদ-আ-তের’ সারচার্জ বাস্তবায়ন এবং এটি ন্যায্য ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতার ব্যাপারেও তারা আত্মবিশ্বাসী।
নতুন কর নিয়ে মামলা করেছেন সাবেক ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র র্যান্ডি মাস্ত্রো এবং নিউইয়র্ক সিটির আরও তিন বাসিন্দা।
বাদীপক্ষের মূল অভিযোগ, কর চালুর প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট যাচাই ছাড়াই অনেক বাড়ির মালিককে সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে, নিউইয়র্ক সিটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী এমন কিছু পরিবারও সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছে, যেখানে তাদের বাড়ি সম্ভাব্য করের আওতায় পড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের শহরে থাকা কমপক্ষে ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ি এই অতিরিক্ত করের আওতায় আনার কথা।
রাজ্যের বাজেটের মাধ্যমে এ ধরনের কর অনুমোদন করা হয়েছে। পরিকল্পনাটির উদ্দেশ্য হলো শহরে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা।
তবে কর বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়েই সম্পত্তির মালিকদের চিঠি পাঠানো নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
জুলাইয়ে সিটি প্রশাসন বেশ কিছু সম্পত্তির মালিককে চিঠি পাঠিয়ে জানায়, তাদের বাড়ি নতুন করের আওতায় পড়তে পারে।
বাদীপক্ষের দাবি, এই তালিকায় এমন বাড়িও ছিল যেগুলো দ্বিতীয় বাসস্থান নয়। মামলার অন্যতম বাদী র্যান্ডি মাস্ত্রোর পাশাপাশি র্যাচেল ও’ব্রায়েনও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান।
ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, তার বাড়িকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাসস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা যুক্তিসংগত নয়। তিনি ও তার স্বামী ওই বাড়িতেই বসবাস করেন এবং সেখানেই তাদের পরিবার গড়ে তুলেছেন বলে জানান।
অভিযোগের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সিটি প্রশাসন বাড়ির মালিকদের জন্য একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে কেউ মনে করলে তার সম্পত্তি করের আওতায় পড়ার কথা নয়, তিনি আবেদন করে বিষয়টি জানাতে পারেন।
পরবর্তীতে আপত্তি বা অব্যাহতির আবেদন করার সময়সীমাও বাড়ানো হয়।
নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স প্রকাশিত একটি সম্পত্তির তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তালিকায় থাকা বেশ কিছু সম্পত্তিকে নতুন সারচার্জের সম্ভাব্য আওতাভুক্ত বলে মনে করা হয়।
তবে মেয়র মামদানি এই তালিকাকে কর আরোপের চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য, এটি মূলত আইন অনুযায়ী প্রকাশিত একটি কর-সংক্রান্ত তালিকা এবং এতে নিউইয়র্ক সিটির বিপুলসংখ্যক সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মামলার অন্যতম বাদী র্যান্ডি মাস্ত্রোকে ঘিরেও মেয়রের দপ্তর পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, চলতি বছর মাস্ত্রো এর আগেও মেয়রের ভাড়া-স্থির রাখার নীতি এবং চার্টার কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মাধ্যমে প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন করের বিরুদ্ধে করা মামলাটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নীতিগত বিরোধের অংশ।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের অভিযোগ, মূল সমস্যা হলো কর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকদের সঠিকভাবে শনাক্ত না করা এবং নাগরিকদের ওপর অযথা প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা।
মেয়র মামদানি শুরু থেকেই উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার প্রশাসনের দৃষ্টিতে, শহরের অত্যন্ত মূল্যবান দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা নিউইয়র্কের রাজস্ব কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে করটি বাস্তবে কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে শুরুতেই যদি সম্পত্তির মালিকদের ভুলভাবে চিহ্নিত করার অভিযোগ ওঠে, তাহলে পরিকল্পনাটির প্রশাসনিক বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
এখন বিচারকের স্থগিতাদেশের পর মামদানি প্রশাসনের আপিলই হয়ে উঠেছে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ‘পিয়েদ-আ-তের’ সারচার্জ বাস্তবায়নের গতি এবং নিউইয়র্কে ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোবে।