যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের বাসিন্দা বাংলাদেশি প্রবাসী নিয়ামত উল্লাহকে স্প্যাম কল জালিয়াতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আপশুর কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি স্থানীয় ব্যাংক থেকে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের বাসিন্দা বাংলাদেশি প্রবাসী নিয়ামত উল্লাহকে স্প্যাম কল জালিয়াতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
আপশুর কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি স্থানীয় ব্যাংক থেকে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি প্রতারক চক্র নিজেদের নর্টন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল।
ভুক্তভোগীকে জানানো হয়, তিনি নাকি অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন—যা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। এই অজুহাতে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের তদন্তকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থ হস্তান্তর অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্ধারিত সময় ও স্থানে নজরদারি বসানো হয় এবং সন্দেহভাজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে অর্থ গ্রহণের সময় ডেপুটিরা নিয়ামত উল্লাহকে আটক করেন। পরে তার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা এবং একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত নিয়ামত উল্লাহ নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে টাইগার্ট ভ্যালি আঞ্চলিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার জামিনে আটক রয়েছেন।
শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, এফবিআই এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য, নিয়ামত উল্লাহর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে এখন সবার দৃষ্টি।