যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত নারী কারা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে তার ২৬ বছর বয়সী ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার কুইন্সের ফার রকাওয়ের নেমিওক অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, নিহতের নাম জোয়ান ক্রফোর্ড (৬১)। তিনি নিউইয়র্কের কারা বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত নারী কারা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে তার ২৬ বছর বয়সী ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার কুইন্সের ফার রকাওয়ের নেমিওক অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, নিহতের নাম জোয়ান ক্রফোর্ড (৬১)। তিনি নিউইয়র্কের কারা বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন এবং অবসরের পর কুইন্সে বসবাস করছিলেন। মঙ্গলবার সকাল প্রায় পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ জরুরি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের ছেলে আরমেল ক্রফোর্ডকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
নিহতের চাচাতো ভাই ব্যারি ক্রফোর্ড স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ছোটবেলা থেকেই মায়ের প্রতি আরমেলের ক্ষোভ ছিল। তার অভিযোগ ছিল, কারা বিভাগে দায়িত্ব পালনের কারণে জোয়ান ক্রফোর্ড পরিবারের তুলনায় কর্মস্থলেই বেশি সময় দিতেন। এ কারণে তিনি মায়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় স্নেহ ও সময় পাননি বলে মনে করতেন।
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি আরমেলের সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে ওঠে দাদির দেখভাল নিয়ে বিরোধের কারণে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দাদির প্রতি দায়িত্ব পালনে অসন্তুষ্ট হয়ে জোয়ান ক্রফোর্ড ছেলেকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। এরপর থেকেই মা-ছেলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
ব্যারি ক্রফোর্ড বলেন, আরমেলের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার ক্ষোভ মূলত মাকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
পরিবারের সদস্যরা জোয়ান ক্রফোর্ডকে দায়িত্বশীল, সহানুভূতিশীল ও স্নেহশীল মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তারা বলেছেন, এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করেননি।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত আরমেল ক্রফোর্ডকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে।