এশিয়া কাপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। সেই ম্যাচের আগে চলে আসছে বিভিন্ন ম্যাচের স্মৃতি, নানা ঘটনা। এই এশিয়া কাপের মঞ্চেই ভারতের একটা অদ্ভুত ঘটনাও তার একটা। ২০০৪ সালের সেই এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল ভারত, সেটা ছিল ইচ্ছাকৃতভাবেই, এবং সে হারের ব্যবধান দেখে বেশ আনন্দও পেয়েছিল দলটা! কলম্বোয় সুপার ফোরের অঘোষিত […]
এশিয়া কাপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। সেই ম্যাচের আগে চলে আসছে বিভিন্ন ম্যাচের স্মৃতি, নানা ঘটনা। এই এশিয়া কাপের মঞ্চেই ভারতের একটা অদ্ভুত ঘটনাও তার একটা। ২০০৪ সালের সেই এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল ভারত, সেটা ছিল ইচ্ছাকৃতভাবেই, এবং সে হারের ব্যবধান দেখে বেশ আনন্দও পেয়েছিল দলটা!
কলম্বোয় সুপার ফোরের অঘোষিত সেমিফানালে মাঠে নেমেছিল দুই দল। সেই এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুপার ফোরে সব ম্যাচ হেরেছিল, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা জিতেছিল সব ম্যাচ। তাই কার্যত এই ম্যাচের ফলই ভারত বা পাকিস্তানের কোনো এক দলকে তুলে দিত ফাইনালে।
সে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইনজামাম-উল-হক টস জিতে ব্যাটিং নেন। লো স্কোরিং সব ম্যাচের জন্য কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের তখন বেশ দুর্নাম ছিল, গড়পড়তা প্রথম ইনিংসের রান ছিল ১৯১। সেই এক মাঠে শোয়েব মালিক একাই করে বসেন ১৪৩ রান, এই ম্যাচের আগে যার ওয়ানডে গড় ছিল ২৬ এর আশেপাশে। তার এমন ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান তোলে ৫০ ওভারে ৩০০ রান।
জবাবে ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। শুরুতেই ফেরেন বীরেন্দর সেহওয়াগ। পরে শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলী ইনিংস গড়ার কাজে মন দেন। তবে গাঙ্গুলী ৩৯ রানে ফিরে গেলে সে চেষ্টা ভেস্তে যায়। এরপর রাহুল দ্রাবিড় ৫ ও যুবরাজ সিং ২৮ রান করে আউট হলে ২৫তম ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৯/৪। মোহাম্মদ কাইফও দ্রুত আউট হলে ১৫১ রান তুলতেই ৫ উইকেট খুইয়ে বসে ভারত। দলটার জয়ের আশা তখন প্রায় শেষ এমনই মনে হচ্ছিল। ভারতও তা আঁচ করতে পেরে অন্য লক্ষ্যে মন দেয়!
সেই টুর্নামেন্টে ছিল অদ্ভুত এক বোনাস পয়েন্ট নিয়ম। এই নিয়মে দল লক্ষ্য ছুঁতে না পারলেও নির্দিষ্ট রান করলে বা প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রাখলে বোনাস পেত। যখন ভারত বুঝতে পারে ৩০১ রান করা সম্ভব নয়, তখন তারা কৌশল পাল্টায়। ভারতের বোনাস পয়েন্ট পেতে লক্ষ্য ছিল ২৪১ রানের।
বোনাস পয়েন্টটা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ সেই টুর্নামেন্টে এক ম্যাচে দেওয়া হতো ৬ পয়েন্ট, ৫ পয়েন্ট পেত ম্যাচ জেতা দল, আর অন্য পয়েন্ট যেত নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা দলের পকেটে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই সুপার ফোরে সবাই জিতছিল। তাদের বিপক্ষে পাকিস্তান খেলত শেষ ম্যাচে। ভারতের বিপক্ষে জয় পেতে যাওয়া পাকিস্তান বাংলাদেশকেও হারাবে, এমনটা ভেবেই ভারত নিজেদের সমীকরণ সাজিয়েছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে বোনাস পয়েন্ট সহ জেতা ভারতের লক্ষ্য ছিল এই ম্যাচ থেকে বোনাস পয়েন্টটা হাতড়ে নেওয়া, সেটা হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে গেলেও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দিয়ে ফাইনালে চলে যেতে পারত দলটা। সেটা না হলে পয়েন্ট সমান হলে শ্রেয়তর রান রেটে ফাইনালে চলে যেতে পারত পাকিস্তান।
সে কারণেই ভারত সে ম্যাচে মন দেয় ২৪১ রানে, যে রান করলেই ভারত পেয়ে যেত বোনাস পয়েন্টটা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নেমেছিলাম, অতীতেও তো আমরা ৩০০ রান তাড়া করে জিতেছি! তবে যখন ১৬০ রানে ৫ উইকেট চলে গেল আমাদের, তখন আমরা ২৪০ রান করার জন্য খেলেছি, যা আমাদের বোনাস পয়েন্ট পাওয়ার জন্য লক্ষ্য ছিল।’
২৫ ওভারের পর থেকে রীতিমতো টেস্ট খেলতে শুরু করে ভারত। টেন্ডুলকার ১০৩ বলে ৭৮ করেন, ওপাশে ইরফান পাঠানও একই মেজাজে ৭৫ বলে ৩৮ রান করেন। শেষ ১৪ ওভারে মাত্র ৬৩ রান যোগ হয়। ভারত শেষমেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ঠিক ২৪১ রান। আর তাই করে ৫৯ রানে হারলেও বোনাস পয়েন্ট পেয়ে যায় ভারত।
মূলত সে কারণেই সেদিন ভারত পাকিস্তানের কাছে হেরেও রীতিমতো জয়ের উল্লাস করতে করতে মাঠ ছাড়ে। শেষমেশ ওই এক পয়েন্টই ভারত আর পাকিস্তানের পার্থক্য গড়ে দেয়। টানা দ্বিতীয় বার এশিয়া কাপ জেতার সুযোগ হাতছাড়া হয় ইনজামামের দলের। ফাইনালে চলে যায় ভারত।