যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় দৃশ্যমানভাবে একটি নতুন মাত্রার নমনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী। তার মতে, পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতাই এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। খবর আলজাজিরা। এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে তা যদি আরও কিছু সময় ধরে বজায় থাকে, তাহলে সেটি স্পষ্ট […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় দৃশ্যমানভাবে একটি নতুন মাত্রার নমনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী। তার মতে, পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতাই এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। খবর আলজাজিরা।
এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে তা যদি আরও কিছু সময় ধরে বজায় থাকে, তাহলে সেটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেবে যে ওয়াশিংটন ও তেহরান—দুই পক্ষই আর সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী নয়।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আলোচনার সময় প্রকাশ্যে অনেক সময় উভয় পক্ষই কঠোর ও দৃঢ় অবস্থানের বার্তা দেয়। তবে বাস্তব আলোচনার টেবিলে চিত্রটা ভিন্ন হয়ে থাকে। তার ভাষায়, জনসমক্ষে কঠোর অবস্থান অনেকটা আলোচনার কৌশলগত অংশ, কিন্তু ভেতরের আলোচনায় দুই পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অভ্যন্তরীণ চাপ বিবেচনায় রেখে তুলনামূলকভাবে নমনীয় আচরণ করছে।
মোহাম্মদ আলীর মতে, পাকিস্তান শুরু থেকেই এই আলোচনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর থেকেই পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
তার দাবি, পাকিস্তানি কূটনৈতিক মহল দুই পক্ষকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, এমন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া কারও জন্যই ইতিবাচক হবে না।
তিনি আরও বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান নয়, পুরো বিশ্বই এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে নতুন উত্তেজনা বা যুদ্ধের ধাক্কা সামাল দেওয়া কঠিন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা সফল হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।