সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৩:০২ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাতিল হলো বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজ, সাশ্রয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা

২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাসের পর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রচলিত নৈশভোজ এবার আর হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে বাজেট–পরবর্তী এই আয়োজন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার নৈশভোজ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। […]

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাতিল হলো বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজ, সাশ্রয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাসের পর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রচলিত নৈশভোজ এবার আর হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে বাজেট–পরবর্তী এই আয়োজন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি জানান, সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার নৈশভোজ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিতেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, বিগত সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তার দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে এই খাতে বছরে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত বরাদ্দের বাইরেও প্রতি বছর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধুমাত্র এই খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাবার সরবরাহ করত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। তবে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের বিপুল অঙ্কের বকেয়া অর্থ এখনও পরিশোধ করা বাকি রয়েছে এবং বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সেই দায় পরিশোধ করছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তির পর বিকেল চারটার দিকে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেটটি পাস হয়।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারেক রহমান সরকারি আপ্যায়ন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

তিনি আরও জানান, বাজেট পাসের দিন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন এবং অধিবেশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কার্যক্রমে অংশ নেন। বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ, আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং সংসদীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিরতির সময়েও তিনি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

সূত্র: ইত্তেফাক

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ