নির্বাচনের আগে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সময়ে ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে দেশের জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্য […]
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের আগে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সময়ে ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে দেশের জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের সংকট চলছে এবং অনেক এলাকায় গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ নির্বাচনের সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, সেই সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমানে যারা চাকরিতে রয়েছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে—তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘টুকু আসে, টুকু যায়।’ তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন চলে যায়, তা নিয়েই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চলছে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা আশাব্যঞ্জক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।
দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজারে ৮০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিমের দাম কয়েক দফা বেড়েছে এবং চালের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সরকারের নীতির সমালোচনা। একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বিদ্যমান চাকরি ও কলকারখানা বন্ধের পরিস্থিতি—এই দুইয়ের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে বলেই তিনি সংসদে প্রশ্ন তোলেন।