সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
৪:২৩ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২৬

যার বিয়ে তার ঠেকা নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বেরিয়ে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এনসিপির জোট ছাড়ার বিষয়টি জামায়াত কিংবা এনসিপি—কোনো পক্ষের রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে নেই। একই সঙ্গে সরকার বিরোধীদলীয় আসনগুলোর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে অভিযোগ তুলে […]

যার বিয়ে তার ঠেকা নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বেরিয়ে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এনসিপির জোট ছাড়ার বিষয়টি জামায়াত কিংবা এনসিপি—কোনো পক্ষের রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে নেই।

একই সঙ্গে সরকার বিরোধীদলীয় আসনগুলোর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে অভিযোগ তুলে অচিরেই একটি দক্ষ ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এ সময় জামায়াত, এনসিপি এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপি ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে পারে—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা এনসিপিরও এজেন্ডা না, আমাদেরও এজেন্ডা না। মানে যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া–পড়শির ঘুম নাই—এ রকম আরকি বিষয়টা।’

তিনি বলেন, বর্তমান সমঝোতাকে কোনো স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা। বর্তমানে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেও সংশ্লিষ্ট দলগুলো যুগপৎভাবে রাজপথে আন্দোলন করছে বলে জানান তিনি।

জোট থেকে কোনো দল বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, অতীতে চারদলীয় ঐক্যজোটের পরিধি ধাপে ধাপে ১৮, ২০ এবং একপর্যায়ে ২৭ দলে গিয়ে পৌঁছেছিল। তাঁর মতে, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কাউকে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় জোর করে রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে বর্তমান ঐক্যের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান শফিকুর রহমান।

সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শফিকুর রহমান জানান, এ নিয়ে ইতিমধ্যে দলের ভেতরে প্রাথমিক প্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য, শুধু শরিক দলগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে না। দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ এবং দক্ষ পেশাজীবীদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগও তোলেন জামায়াত আমির। তাঁর দাবি, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকার তুলনায় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারদলীয় দায়িত্বশীল নেতারা প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যে, ভোট জামায়াতকে দিলে উন্নয়ন ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে চাওয়া যাবে না। এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, সাংবিধানিকভাবে উন্নয়ন কোনো অনুকম্পা নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

এ ছাড়া সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতার অভিযোগও করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেকসই সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট গণরায় দিলেও জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে গেছে।

সরকার সংকট সমাধানের পথ এড়িয়ে যাওয়ার কারণেই বিরোধীদের রাজপথে নামতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সামগ্রিক বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথে এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকটসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সংস্কারকামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ