বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার সঙ্কেত দিচ্ছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ, মিরপুরের শিয়ালবাড়ির পোশাক কারখানা এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডের সাম্প্রতিক আগুনের দগ্ধ ঘটনাগুলো শুধু ভয় ও উদ্বেগই সৃষ্টি করছে না, বরং দেশের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতা ও রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার কথাও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পর বিভিন্ন সময়ে […]
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার সঙ্কেত দিচ্ছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ, মিরপুরের শিয়ালবাড়ির পোশাক কারখানা এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডের সাম্প্রতিক আগুনের দগ্ধ ঘটনাগুলো শুধু ভয় ও উদ্বেগই সৃষ্টি করছে না, বরং দেশের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতা ও রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার কথাও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পর বিভিন্ন সময়ে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো মূলত কাগজে কাগজে আটকে থাকে; বাস্তবে তা থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। ফলে আগুনের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে দেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এটি শুধু মানুষের জীবন ও সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলে, বরং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছিল। সেখানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রাজউক, বিদ্যুৎ বিভাগসহ দশটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ‘অগ্নিনিরাপত্তা সচেতন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি, এমনকি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ ধরনের কোনো উদ্যোগের খবরও রাখেন না। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টাফ অফিসারও স্বীকার করেছেন যে তাদের অধিকাংশ পরামর্শ কার্যকর হচ্ছে না।
তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি ও বেসরকারি ১১টি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অবহেলা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়বদ্ধ হতে হবে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, অনিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার, রাসায়নিক পদার্থের ভুল সংরক্ষণ ও মালিক-ব্যবহারকারীদের অবহেলা অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অব্যাহত থাকবে, যার প্রভাব পড়বে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদাসীনতা ত্যাগ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আগের তদন্ত কমিটিগুলোর সুপারিশ দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করে তা বাস্তবায়ন শুরু করা এখন সময়ের দাবি।
যদি এসব ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আমরা নতুন নতুন তদন্ত কমিটির খবর শুনতেই থাকব, কিন্তু আগুনের শিখার ধ্বংস থেকে রক্ষা পাবো না। তাই অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণই একমাত্র পথ।