যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কর-সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের ওপর আরোপিত প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা অনেককে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করছে। নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত ৩৪ বছর বয়সী এরিন ক্ল্যাট তাদেরই একজন। প্রায় এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে […]
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কর-সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের ওপর আরোপিত প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা অনেককে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করছে।
নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত ৩৪ বছর বয়সী এরিন ক্ল্যাট তাদেরই একজন। প্রায় এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
ক্ল্যাট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য জটিল করব্যবস্থা তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তার ভাষায়, নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী জীবন গড়ে তোলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তিনি আর অনুভব করেননি।
বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের সহায়তাকারী সংগঠন ‘আমেরিকানস ওভারসিজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪,৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংগঠনটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যেখানে নাগরিকদের বসবাসের দেশ নির্বিশেষে বৈশ্বিক আয়ের ওপর কর-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। এই নিয়ম অনেক প্রবাসী মার্কিন নাগরিকের জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে।
এছাড়া রাজনৈতিক কারণও নাগরিকত্ব ত্যাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন রাজনীতিতে বাড়তে থাকা মেরুকরণ, নির্বাচন-পরবর্তী বিতর্ক এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ অনেক প্রবাসী নাগরিককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগের সরকারি ফি ২,৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফি কমে যাওয়ায় আগ্রহীদের জন্য প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হয়েছে, যদিও নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে কর-সংক্রান্ত নথিপত্র, আইনি প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হয়।
তবে অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা বসবাসের জন্য নতুন করে ভিসা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব ত্যাগের পেছনে ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক—তিন ধরনের কারণই কাজ করছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।