সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সম্পাদকীয়
২:৪৫ পিএম, ১৫ জুন ২০২৬

শাপলা ট্র্যাজেডি থেকে পরীমণি: কেন বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন বেনজীর আহমেদ

একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপি—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে কর্মজীবনের সাফল্যের পাশাপাশি গত এক দশকে নানা বিতর্ক, রাজনৈতিক সমালোচনা, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগের কারণে বারবার আলোচনার […]

শাপলা ট্র্যাজেডি থেকে পরীমণি: কেন বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন বেনজীর আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপি—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তবে কর্মজীবনের সাফল্যের পাশাপাশি গত এক দশকে নানা বিতর্ক, রাজনৈতিক সমালোচনা, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগের কারণে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ ক্যারিয়ারের উত্থান

১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন বেনজীর আহমেদ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ডিএমপির নেতৃত্বে ছিলেন।

এরপর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক হন। টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় র‍্যাব পরিচালনার পর ২০২০ সালে দেশের ৩০তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অবসরে যান তিনি।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ।

শাপলা চত্বর অভিযান

২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বর কর্মসূচি উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে প্রথম বড় বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। সে সময় ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তীতে তিনি দাবি করেছিলেন, ওই অভিযানে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে সমালোচনা

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী দলের আন্দোলন দমনের সময়ও সমালোচনার মুখে পড়েন বেনজীর আহমেদ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ করার ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সমালোচকদের মতে, ওই সময় পুলিশ প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও এসব অভিযোগ কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেননি বেনজীর।

র‍্যাব ও মানবাধিকার বিতর্ক

র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগ বারবার উঠেছে বাহিনীটির বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একাধিকবার এসব ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে।

বেনজীর আহমেদ বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাবের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেন বেনজীর আহমেদও।

এ ঘটনাকে তার কর্মজীবনের সবচেয়ে আলোচিত আন্তর্জাতিক বিতর্কগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়।

পরীমণি ও বোট ক্লাব বিতর্ক

২০২১ সালে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ঘিরে ঢাকা বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে বেনজীর আহমেদকে।

ঘটনার পর জানা যায়, কর্মরত আইজিপি থাকা অবস্থায় তিনি ওই অভিজাত ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়।

দুর্নীতির অভিযোগে নতুন সংকট

অবসরের পর সবচেয়ে বড় বিতর্কের মুখে পড়েন দুর্নীতির অভিযোগে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তার ও পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে।

আদালতের নির্দেশে রাজধানীর গুলশানের একাধিক ফ্ল্যাট, শত শত বিঘা জমি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র এবং বহু ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ ও উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অস্বীকার

বেনজীর আহমেদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অবসরের পর তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

তবে দুদকের তদন্ত এবং আদালতের বিভিন্ন আদেশের পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখন জাতীয় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

একসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান করা বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেই প্রশ্নই আলোচনার কেন্দ্রে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ