সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৪:১৫ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, উদ্বেগ জাতিসংঘের

আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) ছোট ছোট সেল গঠন করে আঞ্চলিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম ও আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশেও একিউআইএসের ছোট সাংগঠনিক ইউনিট বা সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে […]

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, উদ্বেগ জাতিসংঘের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) ছোট ছোট সেল গঠন করে আঞ্চলিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম ও আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশেও একিউআইএসের ছোট সাংগঠনিক ইউনিট বা সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে আল-কায়েদা এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএস বড় আকারের ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে তারা রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকেও সংগঠনটি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

একিউআইএসের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়েছিল বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একিউআইএস এখনো জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সংগঠনটি ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি)-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে বলেও স্যাংশনস মনিটরিং টিম জানিয়েছে। আইএমপিকে বেশ কয়েকটি হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

এর মধ্যে গত ৯ মে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকবোঝাই যান বিস্ফোরণের ঘটনাটিও রয়েছে। ওই হামলায় ২১ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, একিউআইএসের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের তালেবান সরকারের দেওয়া তাজকিরা বা পরিচয়পত্র থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দলের মতে, এ বিষয়টি তালেবান ও একিউআইএসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বা সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তপারের হামলা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা এখনো রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে তালেবান সরকার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। যদিও তালেবান প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পাকিস্তান-আফগানিস্তানের চলমান সংঘাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এতে শুধু দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ