সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৬:২৩ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই দিল্লিতে ত্রিবেদী, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তার ইঙ্গিত?

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি সফরে গেছেন। তার এই আকস্মিক সফরের আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগের মধ্যে ত্রিবেদীর দিল্লি যাত্রা কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে […]

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই দিল্লিতে ত্রিবেদী, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তার ইঙ্গিত?

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি সফরে গেছেন। তার এই আকস্মিক সফরের আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগের মধ্যে ত্রিবেদীর দিল্লি যাত্রা কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা?

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ত্রিবেদী। সেখানে নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত পরিস্থিতি, ভিসা কার্যক্রম এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে।

দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ হওয়ার পরই বিকেলে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ভারতের হাইকমিশনার।

দিল্লিতে ত্রিবেদীর বৈঠকের উদ্দেশ্য কী?

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, কোনো দেশের হাইকমিশনার নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কাছে বৈঠকের বিষয়বস্তু ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। ত্রিবেদীর দিল্লি সফরও এমন একটি নিয়মিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, ঢাকার প্রত্যাশা এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দিল্লির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে আছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফেরত চেয়ে আসছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে আসা এবং এরপর তার দিল্লি সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি এবং ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অবস্থান—দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্ক পুনর্গঠনে নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও ভিসা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যোগাযোগ বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব ক্ষেত্রে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এর মধ্যেই ত্রিবেদীর একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং দ্রুত দিল্লি সফর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ত্রিবেদীও দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও বৈঠক সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলো সমাধানে সহায়ক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে দিল্লি সফরের আনুষ্ঠানিক কারণ বা সেখানে ত্রিবেদী কার কার সঙ্গে বৈঠক করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার এই সফর থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ