ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকাসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আটকের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে বলেছে, ভোট কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে […]
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকাসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আটকের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে বলেছে, ভোট কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোট কেনাবেচা চলছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো—ভোট কেনাবেচা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। তারা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার অভিযোগ উত্থাপন করেন।
এদিন দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে একটি ব্যাগভর্তি টাকাসহ আটক করে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, তার ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এছাড়া ঢাকার সূত্রাপুরে একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াত নেতা মো. হাবিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় টাকাসহ আটক হওয়া দলটির এক কর্মীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক রাজনৈতিক নেতাকে টাকাসহ আটকের খবর পাওয়া গেছে। একই জেলার চৌদ্দগ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের সময় বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লক্ষ্মীপুরে ভোটের আগে টাকা ছড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।