সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাণিজ্য
৫:২০ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন পোশাক বাজারে চীন-ভারতের তুলনায় কম ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। দেশটিতে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানির হার মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ। তবে উচ্চ শুল্ক, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং পোশাকের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বস্ত্র ও পোশাক দপ্তর (ওটেক্সা) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, […]

মার্কিন পোশাক বাজারে চীন-ভারতের তুলনায় কম ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। দেশটিতে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানির হার মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ। তবে উচ্চ শুল্ক, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং পোশাকের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বস্ত্র ও পোশাক দপ্তর (ওটেক্সা) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রতিযোগী বড় বাজারগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের পোশাক রপ্তানিতে পতন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি নেমে এসেছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কম। একই সময়ে পরিমাণের দিক থেকেও আমদানি ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে গড় একক মূল্য ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ থেকে এই ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি হয়েছে ৪ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলারের। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। তবে শুধু জুন মাসেই বাংলাদেশ থেকে ৭৬৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের জুনের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মূল্যের হিসাবে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে চীনের। দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমেছে ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ভারত থেকে কমেছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে যথাক্রমে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ, ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

পরিমাণের দিক থেকেও চীন ও ভারতের পতন ছিল উল্লেখযোগ্য। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমেছে ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, ভারত থেকে ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর বিপরীতে কম্বোডিয়া থেকে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ আমদানি বেড়েছে।

ইউনিট মূল্যের হিসাবে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে চীনের পোশাকে, ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ভারতের দর কমেছে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, আর ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উভয়েরই দর কমেছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও চীন ও ভারতের তুলনায় ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ