যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কার্যক্রম জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সংস্থাটির সব মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তার কাছে ক্যামেরা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আইস কর্মকর্তাদের অভিযান, গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কার্যক্রম জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সংস্থাটির সব মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তার কাছে ক্যামেরা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আইস কর্মকর্তাদের অভিযান, গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাগুলো ক্যামেরায় ধারণ করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। সংস্থাটির নিজস্ব নীতিতেও বলা হয়েছে, বডি ক্যামেরার ফুটেজ কোনো ঘটনার সঠিক তথ্য নথিবদ্ধ করা, কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং জনআস্থা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে মৃত্যুর কয়েকটি ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর বডি ক্যামেরা কর্মসূচিতে নতুন করে গুরুত্ব এসেছে। বিশেষ করে কিছু ঘটনায় কর্মকর্তারা বডি ক্যামেরা না পরায় প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা অন্য ব্যক্তিদের ধারণ করা ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।
আইসের বডি ক্যামেরা নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো অভিযানে কর্মকর্তাদের গুলিতে কারও মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশের আগে সংস্থাটি তা পর্যালোচনা করবে। তবে ভিডিও প্রকাশ করা হবে কেবল তখনই, যখন সেটিকে সংস্থার ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ বলে বিবেচনা করা হবে।
এই নীতিই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এমন নীতির ফলে আইসের নেতৃত্ব এমন ভিডিও প্রকাশ করতে পারে, যা সংস্থার কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে সমালোচনার কারণ হতে পারে এমন ফুটেজ প্রকাশ না করার সুযোগও থেকে যেতে পারে। ফলে কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা থাকলেও তা সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, সব ভিডিও প্রকাশ না করার ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং আইনগত বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রকাশ করা ফুটেজে কর্মকর্তাদের পরিচয় আড়াল করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আইসের বডি ক্যামেরা কর্মসূচি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। সংস্থাটি ২০২১ সালে এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করে। ২০২৪ সাল নাগাদ প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ক্যামেরা কর্মকর্তাদের কাছে মোতায়েন করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে আরও ক্যামেরা সরবরাহের জন্য কংগ্রেস অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করে। সেই অর্থের মাধ্যমে কর্মসূচিটি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
নতুন উদ্যোগের ফলে আইস কর্মকর্তাদের অভিযান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের আরও বেশি ভিডিও রেকর্ড তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন শুধু কর্মকর্তারা বডি ক্যামেরা পরবেন কি না, তা নয়।
ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও কীভাবে সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হবে এবং সাধারণ মানুষ সেই ফুটেজ কতটা দেখতে পারবেন—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।