Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাণিজ্য
১:৫৫ পিএম, ৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানিতে চুক্তির পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১০ লাখ টনের বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি […]

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানিতে চুক্তির পথে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১০ লাখ টনের বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও রয়েছেন। সরকারের পক্ষে তিনিই সম্ভাব্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ বা ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এলপিজি আমদানিবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টন এবং পরবর্তী সময়ে ৭৫ হাজার টন পর্যন্ত এলপিজি আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ।

জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য উৎসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এলপিজির দাম তুলনামূলক কম। ফলে সেখান থেকে এলপিজি আমদানি করা গেলে দেশের ভোক্তারা উপকৃত হতে পারেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। সরকারিভাবে এলপিজি সরবরাহ চালু হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে দেশে মাসিক এলপিজির চাহিদা দেড় লাখ টনের বেশি। এর প্রায় ৯২ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারজাত করে ৪০টিরও বেশি বেসরকারি কোম্পানি। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৪০০ টাকার বেশি বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নতুন সরবরাহ উৎসের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, পুরো বাজার বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় অনেক সময় মূল্য নির্ধারণে সমন্বিত প্রভাব তৈরি হতে পারে। সরকারি অংশগ্রহণ সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতার অংশ নয় বলে জানিয়েছেন জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হলো তুলনামূলক কম দামে এলপিজি সংগ্রহের সুযোগ।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি এলপিজি ব্যবসা করে না। বরং বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতা সহজ করতে মার্কিন সরকারের সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কাঠামোগত চুক্তি করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দুই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ সফর করে এ বিষয়ে কারিগরি মতামত দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, বড় আকারের এলপিজিবাহী জাহাজ মাতারবাড়ি বন্দরে খালাস করা সম্ভব হতে পারে। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতা ও কয়লাবাহী জাহাজের চাপ বিবেচনায় বিষয়টি বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

এলপিজি আমদানির সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাজারজাতকরণের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

সূত্র: যুগান্তর

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ