রাতে ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন চার্জে দিয়ে রাখেন অনেকেই। ফোনটি তখন ব্যবহার না করলেও একেবারে নিষ্ক্রিয় থাকে না। চার্জে থাকা, ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করার সুযোগে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন অ্যাপ নেপথ্যে নানা কাজ চালাতে পারে। এসব কাজের মধ্যে ছবি বিশ্লেষণ, স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপ দ্রুত […]
ছবি: সংগৃহীত
রাতে ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন চার্জে দিয়ে রাখেন অনেকেই। ফোনটি তখন ব্যবহার না করলেও একেবারে নিষ্ক্রিয় থাকে না। চার্জে থাকা, ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করার সুযোগে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন অ্যাপ নেপথ্যে নানা কাজ চালাতে পারে।
এসব কাজের মধ্যে ছবি বিশ্লেষণ, স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপ দ্রুত চালু করার প্রস্তুতিও থাকতে পারে। তবে কোন ফোনে কী ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়া চলবে, তা নির্ভর করে ডিভাইসের মডেল, অপারেটিং সিস্টেম ও নির্মাতার সফটওয়্যারের ওপর। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফোন নিষ্ক্রিয় ও চার্জে থাকা অবস্থায় কিছু কাজ করার সুযোগ থাকে।
গুগলের জিবোর্ড কিবোর্ডে ফেডারেটেড লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার কিছু অংশ সরাসরি ব্যবহারকারীর ফোনে সম্পন্ন হতে পারে।
ফোন চার্জে থাকা, ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা এবং ব্যবহার না করার সময় এ ধরনের প্রক্রিয়া চালানোর সুযোগ থাকে। এতে ব্যবহারকারীর টাইপ করা ব্যক্তিগত তথ্য সরাসরি গুগলের সার্ভারে পাঠানোর পরিবর্তে ফোনে শেখা তথ্যের নির্দিষ্ট অংশ বা মডেল হালনাগাদের তথ্য ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে কিবোর্ডের শব্দের পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করার কাজ হতে পারে।
ফোনে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের অস্থায়ী ফাইল ও তথ্য জমা হয়। এসব তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অপারেটিং সিস্টেম কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়া চালাতে পারে।
ফোন চার্জে থাকা এবং ব্যবহার না করার সময় এ ধরনের কাজ করার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাওয়া যায়। তবে সব স্মার্টফোনে একই ধরনের স্টোরেজ ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া চলে না। ফোনের নির্মাতা, সফটওয়্যার সংস্করণ এবং ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী এসব কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
অনেক স্মার্টফোনের গ্যালারি বা ছবি ব্যবস্থাপনা অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে। ছবিতে থাকা ব্যক্তি, বস্তু বা দৃশ্য শনাক্ত করার মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরে নির্দিষ্ট ছবি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
এই বিশ্লেষণের কিছু অংশ ফোনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে। ফোন দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় এবং চার্জে থাকা অবস্থায় এসব কাজ চালানোর সুযোগ তৈরি হয়। ফলে দিনের বেলায় তোলা ছবিগুলো রাতের দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ, শ্রেণিবিন্যাস বা সাজানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে।
ব্যবহারকারী কোন অ্যাপ কতটা ব্যবহার করেন, সেটিও ফোনের সফটওয়্যার বিভিন্নভাবে বিবেচনা করতে পারে। বেশি ব্যবহৃত অ্যাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সিস্টেম কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়া চালাতে পারে।
ফোন চার্জে থাকা ও নিষ্ক্রিয় থাকার সময় এমন কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ থাকে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে পরবর্তী সময়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপ দ্রুত চালু করতে সহায়তা করা এবং ফোনের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা।
অর্থাৎ, রাতে চার্জে লাগানো অবস্থায় স্মার্টফোন সব সময় শুধু ব্যাটারি পূর্ণ করার কাজেই ব্যস্ত থাকে না। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ ও সেটিংস অনুযায়ী নেপথ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়াও চলতে পারে। তবে কোন কাজ কখন চলবে বা আদৌ চলবে কি না, তা ফোনভেদে আলাদা।