শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি টিকটক ও ইউটিউব—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্ট ফিড শিশুদের সামনে এখনও ক্ষতিকর ভিডিও ও তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অফকমের মতে টিকটক ও ইউটিউব এখনো শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল […]
ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি টিকটক ও ইউটিউব—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্ট ফিড শিশুদের সামনে এখনও ক্ষতিকর ভিডিও ও তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অফকমের মতে টিকটক ও ইউটিউব এখনো শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যকর নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও দুই প্ল্যাটফর্মই দাবি করছে, তাদের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাই যথেষ্ট।
অফকম বলছে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালগরিদম শিশুদের সামনে এমন কনটেন্ট তুলে ধরছে, যা মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক আচরণ ও বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেম মেলানি ডজ বলেন, প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, “শুধু ক্ষতিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেললেই হবে না, বরং সেগুলো কেন শিশুদের সামনে পৌঁছে যাচ্ছে সেটিও বড় প্রশ্ন।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী প্রায় ৮৪ শতাংশ শিশু অন্তত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, যদিও অধিকাংশ প্ল্যাটফর্মের ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর। এ কারণে বয়স যাচাই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছে অফকম।
তবে শিশু নিরাপত্তা বাড়াতে কিছু নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। স্ন্যাপচ্যাট যুক্তরাজ্যে ডিফল্টভাবে অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া রোবলক্স ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ডাইরেক্ট চ্যাট বন্ধ করার সুবিধা আনছে।
অন্যদিকে মেটা জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রামে কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় নতুন গোপনীয়তা ব্যবস্থা ও সন্দেহজনক বার্তা শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সুরক্ষায় এখন শুধু কনটেন্ট অপসারণ নয়, বরং পুরো অ্যালগরিদম ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।