শীতকালে রোজ ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা অনেকের কাছে সাহসী বা “টফ” হওয়ার এক ধরনের পরিচয় মনে হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এটি আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। শীতকালে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা হঠাৎভাবে কমিয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষ […]
শীতকালে রোজ ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা অনেকের কাছে সাহসী বা “টফ” হওয়ার এক ধরনের পরিচয় মনে হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এটি আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস।
শীতকালে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা হঠাৎভাবে কমিয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল শারীরিক অবস্থার ব্যক্তিরা সহজেই সর্দি, কাশি বা জ্বরের মতো সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই শীতকালে গোসল করার সময় উষ্ণ বা হালকা গরম পানি ব্যবহার করাই নিরাপদ।
দ্বিতীয়ত, ঠান্ডা পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়, ফলে ত্বক শুষ্ক ও চুলকানি হতে পারে। গোসলের পর আর্দ্রতা বজায় রাখতে মোইশ্চারাইজার ব্যবহার করা বিশেষজ্ঞরা জরুরি মনে করেন। না হলে হাত, মুখ ও পায়ের ত্বকে ফাটল বা চুলকানি দেখা দিতে পারে।
তৃতীয় ঝুঁকি হলো রক্তনালীর সংকোচন। ঠান্ডা পানি হঠাৎ শরীরে পড়লে রক্তনালী সংকুচিত হয়, যা রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাযুক্ত বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি গুরুতর বিপদ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অবস্থায় মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, শীতকালে গোসলের জন্য উষ্ণ বা হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। যদি রিফ্রেশ হওয়ার জন্য শুধু ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হয়, তবে তা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য করা উচিত। এছাড়া গোসলের পর ত্বককে আর্দ্র রাখার জন্য ক্রিম বা মোইশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শিশু ও বয়স্কদের গোসলের সময় পানির তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।