ঋণের নামে জনতা ব্যাংকের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় সালমান এফ রহমানসহ মোট ৯৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মামলাগুলোর অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন […]
ছবি: সংগৃহীত
ঋণের নামে জনতা ব্যাংকের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় সালমান এফ রহমানসহ মোট ৯৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মামলাগুলোর অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। তিনি জানান, প্রথম থেকে চতুর্থ মামলায় যথাক্রমে ২৩, ২০, ২৪ ও ২৭ জন আসামি রয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে কথিত গ্রাহক ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। পরে বিবি এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকমোডেশন বিল তৈরি করে ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইয়েলো অ্যাপারেলস একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান, যার পরিচালকদের পূর্বে কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল না।
দ্বিতীয় মামলায় একই কৌশলে পিংক মেকার লিমিটেডের নামে ঋণ সুবিধা নিয়ে ৬৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানটিও নবগঠিত এবং পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই।
তৃতীয় ও চতুর্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়, অ্যাপোলো অ্যাপারেলস ও বে সিটি অ্যাপারেলসের নামে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ মঞ্জুর করে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে যথাক্রমে ৭১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এই দুটি প্রতিষ্ঠানও নবসৃষ্ট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে অর্থ হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(এ) ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ও পরে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।