সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:৩৩ অপরাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইল বাংলাদেশ

সৌদি আরবের কারাগারে থাকা ২২ বাংলাদেশির নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ উল্লেখ থাকলেও তাঁদের কী সাজা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। কারও কারাদণ্ডের মেয়াদ, আবার কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কি না, তা উল্লেখ না থাকায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত জানতে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এই ২২ জনের মধ্যে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারও ছিলেন। সম্প্রতি তাঁদের […]

সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

সৌদি আরবের কারাগারে থাকা ২২ বাংলাদেশির নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ উল্লেখ থাকলেও তাঁদের কী সাজা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। কারও কারাদণ্ডের মেয়াদ, আবার কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কি না, তা উল্লেখ না থাকায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত জানতে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

এই ২২ জনের মধ্যে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারও ছিলেন। সম্প্রতি তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর বাকি ২০ জনের পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের কী সাজা হয়েছে, তা জানতে গত ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা অঞ্চল শাখায় চিঠি পাঠায় কনস্যুলেট।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দণ্ডিত বাংলাদেশি নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশি বন্দির একটি তালিকা পাঠায়। জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মপরিধির আওতাধীন বিভিন্ন কারাগারে থাকা এসব বন্দির কারও বিচার শেষ হয়েছে, আবার কারও মামলা চলছে। তালিকা পর্যালোচনা করে কনস্যুলেট দেখতে পায়, কয়েকজনের ‘অবস্থা’ কলামে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামে কোনো তথ্য নেই। তাঁদের সাজা কী ধরনের বা কত মেয়াদের, সেটিও উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা অঞ্চল শাখায় পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। কনস্যুলেট জানিয়েছে, কনস্যুলার দায়িত্ব পালনের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত নয় পৃষ্ঠার তালিকা পর্যালোচনা করে এমন ২২ জন বাংলাদেশির তথ্য পাওয়া গেছে।

কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, এই ২২ জনের মধ্যে আটজন হত্যা মামলায়, পাঁচজন মাদক পাচারের মামলায় এবং পাঁচজন ‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মামলা রয়েছে।

বন্দিদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসি কারাগারে এবং চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে রয়েছেন। অন্য ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে আছেন।

‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত পাঁচজনই শুমাইসি কারাগারে রয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের মামলা ব্যক্তিগত দাবি বা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত হলেও মামলার নথি ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার ধরন দেখে কোনো বন্দির সাজা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। সৌদি আরবে হত্যা মামলায় কিসাসের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে রক্তপণ বা কারাদণ্ডের মাধ্যমেও মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। ফলে তালিকায় থাকা অন্য বাংলাদেশিদের কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য কনস্যুলেটের কাছে নেই।

নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা দণ্ডিত বাংলাদেশিদের রায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব সামনে এনেছে। কোনো বন্দির রায়ের সারসংক্ষেপ না থাকলে তাঁর আপিলের সুযোগ, আইনজীবী নিয়োগ কিংবা রক্তপণ ও ক্ষমার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, দণ্ডিত বাংলাদেশিদের সাজার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নাগরিকদের উন্নত কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা এবং নিজস্ব তথ্যভান্ডার হালনাগাদ রাখার অংশ।

এ ছাড়া ১৯ অক্টোবর পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ২ হাজার ৪৬১ বন্দিকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে তাঁদের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট। এর মধ্যে রয়েছে—সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া বন্দিদের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরত পাঠানো, ভালো আচরণ করা বন্দিদের রাজকীয় ক্ষমার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, প্রথমবার আটক হওয়া ও ছোট অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফ এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি।

আরও দুজন বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট। তাঁদের পরিবারের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করলেও কেন এবং কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়নি।

এসব চিঠির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ