মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে ফি আদায়ের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই এটি কার্যকর হতে পারে। ইরানি পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির মতে, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর […]
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে ফি আদায়ের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই এটি কার্যকর হতে পারে।
ইরানি পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির মতে, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে এই ফি আদায় করা হবে। তাদের দাবি, বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে যেমন শুল্ক নেওয়া হয়, তেমনি হরমুজ প্রণালিতেও এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেহেতু ইরান এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখছে, তাই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া যৌক্তিক।
বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া। নতুন আইনটিকে সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি সামাল দিতেও এটি বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি একটি উন্মুক্ত জলপথ, যেখানে সব দেশের জাহাজ চলাচলের অধিকার রয়েছে। এর মধ্যেই ইরান কিছু ক্ষেত্রে জাহাজপ্রতি প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এই পদক্ষেপে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রণালি খোলা রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান কার্যত নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার চেষ্টা করছে।