দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানের লাহোরে আবার প্রাণ ফিরে পেল ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’। প্রায় ১৯ বছর পর আয়োজিত এই তিন দিনব্যাপী উৎসবে ঘুড়ি ওড়ানো, সংগীত, নাচ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে নগরবাসী। পুরোনো লাহোরের সরু অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত আবাসিক এলাকা—সবখানেই ছিল রঙিন ঘুড়ির ছড়াছড়ি। ড্রামের তালে তালে উচ্ছ্বাস, আকাশজুড়ে উড়তে থাকা নানারঙের ঘুড়ি […]
দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানের লাহোরে আবার প্রাণ ফিরে পেল ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’। প্রায় ১৯ বছর পর আয়োজিত এই তিন দিনব্যাপী উৎসবে ঘুড়ি ওড়ানো, সংগীত, নাচ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে নগরবাসী। পুরোনো লাহোরের সরু অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত আবাসিক এলাকা—সবখানেই ছিল রঙিন ঘুড়ির ছড়াছড়ি।
ড্রামের তালে তালে উচ্ছ্বাস, আকাশজুড়ে উড়তে থাকা নানারঙের ঘুড়ি এবং মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের জন্য তৈরি করে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের অনেকেই প্রথমবারের মতো নাটাই হাতে ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ উপভোগ করেন।
এই উৎসবে প্রজন্মের মেলবন্ধন ছিল চোখে পড়ার মতো। যেখানে প্রবীণরা বহু বছর পর তাদের হারানো দক্ষতা নতুন করে ঝালিয়ে নেন, সেখানে তরুণেরা শেখেন ঘুড়ি ওড়ানোর কৌশল। ২৫ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী আবু বকর আহমেদের মতো অনেকের কাছেই এটি ছিল জীবনের প্রথম বসন্ত উৎসব। আবার উৎসবের টানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে আসেন মিনা সিকান্দারের মতো প্রবাসীরাও।
স্থানীয়দের ভাষায়, বসন্ত কেবল একটি খেলাধুলার আয়োজন নয়—এটি সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে এবার সরকার ও লাহোর পুলিশ নেয় ব্যাপক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ। উৎসবের সময়সীমা তিন দিনে সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং বড় আকারের ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়। বিশেষভাবে মোটরসাইকেল চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইকের হ্যান্ডেলে ধাতব রড বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ঝুলে থাকা সুতা গলায় জড়িয়ে দুর্ঘটনা না ঘটে।
এ ছাড়া বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ সুতা বিক্রি ঠেকাতে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই পুলিশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় প্রায় এক লাখ ঘুড়ি ও দুই হাজারের বেশি সুতার রোল।