সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৩:৫৩ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটন শুরু পরিবেশ উপদেষ্টার ঘোষণা ও দ্বীপের ভবিষ্যত পরিকল্পনা

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য আবার খুলছে ১ নভেম্বর থেকে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রোববার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী মাস থেকে পর্যটকরা এই অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; […]

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটন শুরু পরিবেশ উপদেষ্টার ঘোষণা ও দ্বীপের ভবিষ্যত পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য আবার খুলছে ১ নভেম্বর থেকে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রোববার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী মাস থেকে পর্যটকরা এই অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; এ বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সেন্টমার্টিন পর্যটন বন্ধ থাকার পেছনের কারণ ও প্রভাব

গত ৯ মাস ধরে সেন্টমার্টিনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই সময়ে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পর্যটন খাত ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ থাকায় জেটি ঘাট সুনসান এবং দ্বীপের কর্মচারীরা বেকার সময় কাটাচ্ছেন।

এই বন্ধ থাকার সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেন্টমার্টিনের অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা। দ্বীপের সমুদ্রতট, প্রবাল প্রাচীর, এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিরতি জরুরি ছিল। এতে সাময়িকভাবে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপের পরিবেশ সচল থাকবে, যা ভবিষ্যতে আরও টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন নিশ্চিত করবে।

সেন্টমার্টিনের টেকসই পর্যটন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেন্টমার্টিনকে শুধু আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নয়, স্থানীয় জনগণের জন্যও একটি কেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অর্থাৎ, দ্বীপের টেকসই উন্নয়ন ও স্থানীয় জীবিকা উন্নতিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষকে পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা দ্বীপের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে, যাতে দ্বীপের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং পর্যটকরা নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম শুরু হবে।
  • পর্যটকরা দ্বীপে দিনব্যাপী ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে রাত্রিযাপনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই।
  • পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নতুন নিয়ম-কানুন কার্যকর হবে।
  • স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। এর অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রবৈচিত্র্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। দ্বীপের টেকসই পর্যটন উন্নয়ন জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদে সেন্টমার্টিনকে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ