সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

ফিচার
২:০৯ অপরাহ্ন, ৯ মে ২০২৬

শক্ত ভিত গড়ে তুলছে এনসিপি, বাড়ছে রাজনৈতিক প্রভাব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই দলটি বিরোধী রাজনীতির একটি সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের নেতাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে এনসিপি। শুধু কেন্দ্রীয় […]

শক্ত ভিত গড়ে তুলছে এনসিপি, বাড়ছে রাজনৈতিক প্রভাব

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই দলটি বিরোধী রাজনীতির একটি সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের নেতাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে এনসিপি। শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই নয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দলটিতে যোগদানের প্রবণতা বাড়ছে এবং তা বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে “জুলাই শক্তি”কে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। ঢাকায় চার দফা এবং চট্টগ্রামে এক দফা আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের নেতাকর্মীরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি তৃণমূলেও দলটির সাংগঠনিক বিস্তার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রামে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “যে যেখান থেকেই আসুক, এনসিপির পতাকাতলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” এর আগে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “এনসিপির ছায়াতলে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে নতুন যোগদানকারীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার তারুণ্যের জয়জয়কার হবে এবং সেটি এনসিপির নেতৃত্বেই হবে।”

দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ইতোমধ্যে অনেকেই এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন এবং সামনে আরও অনেকে যোগ দেবেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিরা এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। নতুনদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই দলটি এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের মধ্যে এনসিপির প্রতি “অভূতপূর্ব সমর্থন” রয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে এখনো সেই পরিমাণ সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, “যদি আগে সংগঠন দাঁড় করানো যেত, তাহলে নির্বাচনে আরও ভালো ফল করা সম্ভব হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন আমরা তৃণমূলভিত্তিক শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যারা ইতোমধ্যে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন কিংবা সামনে যোগ দেবেন, তাদের ধাপে ধাপে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে পদায়নের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত করা হবে।

এদিকে খুব শিগগিরই দলটির একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। এতে শিক্ষাবিদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জনের মধ্যে হতে পারে বলে জানা গেছে। চলতি মাসের প্রথমার্ধেই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা উপদেষ্টা পরিষদ করছি সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য। তাদের বুদ্ধি ও পরামর্শকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই।”

এনসিপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং সংস্কার প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কৌশলগত অবস্থান নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় মধ্যপন্থি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির উত্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, সংগঠনকে কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনে দলটি বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “জুলাই শক্তিগুলোর ঐক্য প্রক্রিয়া এখনো চলছে। মানুষের মধ্যে এনসিপিকে ঘিরে আশা তৈরি হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দলকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী করা।”

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “এনসিপির বয়স এক বছর হলেও রাজনীতিতে ইতোমধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। মধ্যপন্থি গণতান্ত্রিক এই দলে এখন অনেকে সম্ভাবনা দেখছেন। ভবিষ্যতে এটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।”

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সংখ্যা ২০০-এর বেশি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও পলিটিক্যাল কাউন্সিলও গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ করা হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে এক ডজনের বেশি বিশেষায়িত উইং ও সেলও গঠন করা হয়েছে।

সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যেও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। যুব, ছাত্র, নারী, শ্রমিক ও প্রবাসীদের নিয়ে আলাদা সংগঠন সক্রিয় করা হচ্ছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া দলিত, হরিজন ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে “জাতীয় জনজাতি জোট” গঠন করা হয়েছে। “জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তি” নামে একটি সংগঠনও এনসিপির সমর্থনে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করতে গঠন করা হয়েছে “গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেল”। চলতি মাসে “জাতীয় স্বেচ্ছাসেবকশক্তি” ও “জাতীয় কৃষকশক্তি” আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলী আহসান জুনায়েদ, রাফে সালমান রিফাত, ইসহাক সরকার, ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা, মহিউদ্দিন রনি এবং ড. নাদিমুর রহমান-সহ আরও অনেকে।

সবশেষে, এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন। রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আজ ৩৫ জন নেতৃত্ব পর্যায়ের ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।”

দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক রাফিদ এম ভূঁইয়া জানান, উত্তরার প্রায় ১০০ পোশাক শ্রমিকও অচিরেই এনসিপিতে যোগ দেবেন এবং তারা দলটির শ্রমিক সংগঠন “জাতীয় শ্রমিক শক্তি”-র সঙ্গে কাজ করবেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ