সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

মুক্তমত
৫:৪১ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬

ককরোচদের আন্দোলনে বড় জয়, মোদি সরকারকে ছাড় দিতে বাধ্য করা হলো

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর। ককরোচ জনতা পার্টি নামে পরিচিত এই আন্দোলনের মুখে সরকারকে একাধিক ছাড় দিতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা সংস্কারের আশ্বাস এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের অঙ্গীকার। আন্দোলনকারীরা সরকারকে দাবিগুলো […]

ককরোচদের আন্দোলনে বড় জয়, মোদি সরকারকে ছাড় দিতে বাধ্য করা হলো

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর। ককরোচ জনতা পার্টি নামে পরিচিত এই আন্দোলনের মুখে সরকারকে একাধিক ছাড় দিতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা সংস্কারের আশ্বাস এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের অঙ্গীকার।

আন্দোলনকারীরা সরকারকে দাবিগুলো মানতে বাধ্য করার পর আন্দোলন সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় একাধিক গণমাধ্যম এই ঘটনাকে মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি জবাবদিহির দাবিতে বড় আকার নেয়। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর শেষ পর্যন্ত সরকার আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রতীকী সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমটির মতে, সরকার শুধু পদত্যাগেই থেমে থাকেনি; পরীক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর কথাও জানিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলন আপাতত বড় অর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তরুণদের নতুন রাজনৈতিক ভাষা। ব্যঙ্গ, মিম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সৃজনশীল প্রতিবাদের মাধ্যমে তারা সরাসরি সরকারের সমালোচনা করেছে। একসময় যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক ছিল, সেগুলোই এবার তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে বলিউড ও ক্রীড়াঙ্গনের অনেক তারকার নীরবতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, সরকারের সমালোচনায় তারা ভয় পাচ্ছেন। এতে আন্দোলনের সামাজিক প্রভাব আরও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার সরাসরি ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে প্রচলিত বিরোধী দলগুলো অনেকটাই আলোচনার বাইরে চলে যায়। তবে একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হয় যে, শিক্ষার্থীদের চাপ সরকার উপেক্ষা করতে পারেনি। পত্রিকাটি একে যুবশক্তির জয় এবং সরকারের সমঝোতায় বাধ্য হওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি জবাবদিহি নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষকে সামনে এনেছে। প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ, ইন্টারনেট সীমিতকরণ এবং আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পরও সরকার শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।

তবে এটিও সত্য যে, ককরোচ জনতা পার্টি ভারতের স্বীকৃত কোনো প্রধান রাজনৈতিক দল নয়; এটি মূলত একটি ছাত্র-যুবকেন্দ্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে। ফলে এটিকে মোদি সরকারের চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরাজয় বলা না গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারের ওপর সবচেয়ে কার্যকর চাপ সৃষ্টিকারী আন্দোলনগুলোর একটি হিসেবে এটি ইতোমধ্যেই আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ