যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে অন্তত ১২টি দেশের […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে অন্তত ১২টি দেশের ২৭ জন বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভ্রমণের সময় আটক করা হয়েছে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, আগের প্রশাসনের সময় কার্যকর থাকা সেই নীতি বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিমানপথে চলাচল করতে পারতেন। নতুন নীতির আওতায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমানে যেসব অভিবাসী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তারা কেবল নিজ দেশে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনাকারী সংগঠন আমেরিকান ওভারসাইট এমন একটি নথি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় ২০২৫ সালের মে মাসে আইস এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ)-এর মধ্যে যাত্রীদের তথ্য বিনিময়সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে নথির বেশ কিছু অংশ প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমানে ভ্রমণের আগে যাত্রীদের দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এখন আইসের জন্য আরও সহজ হয়েছে। ফলে বিমানবন্দরগুলোতে গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়তে পারে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস, লাস ভেগাস, ন্যাশভিল, ডেনভার এবং সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ফু নুগুয়েনকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করা হচ্ছে। আইসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৫ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
এ ছাড়া ইকুয়েডরের ২৭ বছর বয়সী চ্যান্টাল মোরালেস রোহাসকে ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজ দেশে ফেরার বিমানে ওঠার আগে আটক করা হয়। আইস জানিয়েছে, তার ভিসার মেয়াদ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছিল।
ডিএইচএসের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন বা বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২২ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।