যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক কার্ড ও সরকারি সহায়তার কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ‘কার্ড স্কিমিং’ প্রতারণা। এটিএম বা কার্ড রিডারে গোপনে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সরকারি সহায়তার অর্থ চুরি করা হচ্ছে। মার্কিন […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক কার্ড ও সরকারি সহায়তার কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ‘কার্ড স্কিমিং’ প্রতারণা। এটিএম বা কার্ড রিডারে গোপনে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সরকারি সহায়তার অর্থ চুরি করা হচ্ছে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, একটি এটিএম বা কার্ড রিডারে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্কিমিং ডিভাইস স্থাপন করা সম্ভব। এরপর গ্রাহক কার্ড সোয়াইপ করলে ডিভাইসটি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে। এতে থাকা ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য প্রতারকদের কাছে পৌঁছে যায়। সিক্রেট সার্ভিসের বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্কিমার ব্যবহার করেই প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ চুরি করা সম্ভব।
কার্ড স্কিমিংয়ের বিস্তার ঠেকাতে সিক্রেট সার্ভিস দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তারা ৪০০টির বেশি অবৈধ স্কিমিং ডিভাইস উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব ডিভাইস দেশজুড়ে সক্রিয় থাকা মোট স্কিমারের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে ৩২টি সক্রিয় ফেডারেল তদন্ত চলছে। সিক্রেট সার্ভিসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ ডিভিশনের সহকারী স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ মাইকেল পেক জানিয়েছেন, পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাদের কেউ কেউ মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এ ধরনের অপরাধ চালায়।
এই প্রতারণার কারণে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের সম্মিলিতভাবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতারকদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ইবিটি (EBT) বা সরকারি সহায়তার কার্ড। এসব কার্ডে অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক চিপ বা ‘ট্যাপ-অ্যান্ড-পে’ প্রযুক্তির সুবিধা না থাকায় গ্রাহকদের কার্ড সোয়াইপ করে লেনদেন করতে হয়। ফলে স্কিমিংয়ের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।
সরকারি সহায়তার অর্থ জমা থাকা এসব কার্ড থেকে টাকা চুরি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার খাদ্য সহায়তা, বাসাভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে এই অর্থের ওপর নির্ভর করে।
ছয় সন্তানের মা মেরি বোয়েন সম্প্রতি এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে তার কার্ডে থাকা পুরো অর্থ চুরি হয়ে যায়। ফলে খাবার ও বাসাভাড়া পরিশোধের মতো প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও তিনি সমস্যায় পড়েছেন।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত একটি অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩২৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭৪৯টি কার্ড রিডার ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইস পরীক্ষা করে। সেখানে ১৬টি স্কিমিং ডিভাইস শনাক্ত ও জব্দ করা হয়।
সিক্রেট সার্ভিসের হিসাবে, এসব ডিভাইসের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারত। বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও স্কিমিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা কার্ড ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সম্ভব হলে কার্ড সোয়াইপ না করে ট্যাপ-অ্যান্ড-পে বা কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া এটিএম বা কার্ড রিডারে অস্বাভাবিক কোনো ডিভাইস, ঢিলা অংশ বা পরিবর্তিত কার্ড স্লট চোখে পড়লে সেটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। নিয়মিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ডের লেনদেনও পরীক্ষা করা উচিত, যাতে অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ