নিউইয়র্ক সিটিতে বাস থেকে ভাড়া আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাসভাড়া থেকে আয় কমেছে ৩১ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে নির্ধারিত ভাড়া না দিয়ে বাসে যাতায়াতকারীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ)-র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক বাসযাত্রী ৩ […]
ফাইল ছবি
নিউইয়র্ক সিটিতে বাস থেকে ভাড়া আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাসভাড়া থেকে আয় কমেছে ৩১ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে নির্ধারিত ভাড়া না দিয়ে বাসে যাতায়াতকারীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ)-র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক বাসযাত্রী ৩ ডলারের নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করছেন না।
ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে বাসভাড়া দেওয়া যাত্রীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। তবে সাবওয়ে ও কমিউটার রেলের ভাড়া আদায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা বাড়ার মধ্যেই মেয়র জোহরান মামদানির ফ্রি বাস পরিকল্পনা আবার আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনী প্রচারে নিউইয়র্ক সিটির বাসভাড়া তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
তবে এখনো শহরের বাসে ভাড়া বহাল রয়েছে এবং যাত্রীদের নির্ধারিত ৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়।
এমটিএ নিউইয়র্ক সিটি সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নয়। এটি নিউইয়র্ক স্টেটের অধীন একটি পাবলিক অথরিটি। ফলে মেয়র এককভাবে বাসভাড়া বাতিল করতে পারবেন না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্টেট পর্যায়ের অনুমোদন ও অর্থায়ন প্রয়োজন হবে।
এমটিএর চেয়ারম্যান ও সিইও জানো লিবারের বক্তব্যে মামদানির ফ্রি বাস প্রচারের সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতার সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তার যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে বাস ফ্রি করার আলোচনা চলায় কিছু যাত্রীর মধ্যে এখনই ভাড়া না দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
ট্রানজিট কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি ইউনিয়নের কর্মকর্তাও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, কোনো সেবা ভবিষ্যতে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বারবার বলা হলে কিছু মানুষ সেটির জন্য বর্তমান সময়েও অর্থ না দেওয়াকে স্বাভাবিক মনে করতে পারেন।
তবে বাসভাড়া ফাঁকির পুরো দায় মামদানির প্রচারণার ওপর চাপানোর মতো সরাসরি প্রমাণ নেই। কারণ তিনি মেয়র হওয়ার আগেও নিউইয়র্কে ফেয়ার ইভেশন বড় সমস্যা ছিল।
নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে শহরের বাসে ভাড়া ফাঁকির গড় হার ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে এই হার কিছুটা কমে ৪৪ শতাংশে দাঁড়ায়।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় সাময়িকভাবে বাসভাড়া আদায় বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পুনরায় ভাড়া চালু করা হলেও ফেয়ার ইভেশন আর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এ কারণে বর্তমান ভাড়া আদায়ের সংকটে মামদানির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা দায়ী, তা নিয়ে এমটিএ কর্মকর্তা ও মেয়র প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
নিউইয়র্কে এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি বাস রুটে বিনামূল্যে যাত্রী পরিবহন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে চালু হওয়া ওই কর্মসূচি ২০২৪ সালে শেষ হয়।
মামদানি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বাসভাড়া তুলে দিলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় কমবে এবং গণপরিবহন আরও সহজলভ্য হবে। তাঁর প্রশাসন এখনো ফ্রি বাসের পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান করছে।
বাসভাড়া থেকে আয় কমে যাওয়ায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘাটতি পূরণের অর্থ কোথা থেকে আসবে। বাস পরিচালনা, চালক-কর্মীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণসহ বৃহত্তর গণপরিবহন ব্যবস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভাড়া থেকে পাওয়া রাজস্ব সরাসরি যুক্ত।
ফলে নিউইয়র্কের বিতর্ক এখন শুধু বাস ফ্রি হবে কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বাস এখনো বিনামূল্যে না হলেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী কেন ভাড়া দিচ্ছেন না এবং এর ফলে হারানো বিপুল রাজস্ব কীভাবে পূরণ করা হবে—এটাই এমটিএ ও মেয়র মামদানির প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।