যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করতে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের ফি দিতে হতে পারে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) আবেদন ফি বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা কার্যকর হলে কাগজে N-400 আবেদন করতে খরচ হবে ১ হাজার ৩৩০ ডলার। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের বর্তমান ফিই […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করতে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের ফি দিতে হতে পারে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) আবেদন ফি বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা কার্যকর হলে কাগজে N-400 আবেদন করতে খরচ হবে ১ হাজার ৩৩০ ডলার।
তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের বর্তমান ফিই দিতে হবে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে কাগজে N-400 জমা দিতে ৭৬০ ডলার লাগে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে তা ৫৭০ ডলার বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হবে। অর্থাৎ বর্তমান ফির তুলনায় খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ বাড়বে।
অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রেও ফি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে ৭১০ ডলারের বদলে তখন ১ হাজার ২৮০ ডলার দিতে হতে পারে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—এই ১ হাজার ৩৩০ ডলার কোনো নতুন ‘পাসপোর্ট ফি’ নয়। এটি ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য N-400 আবেদনের প্রস্তাবিত ফি।
অন্যদিকে মার্কিন পাসপোর্টের ফি সম্পূর্ণ আলাদা। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তির প্রথম পাসপোর্ট বুকের আবেদন ফি ১৩০ ডলার। এর সঙ্গে ৩৫ ডলারের অ্যাকসেপ্টেন্স ফি যোগ হলে মোট খরচ দাঁড়ায় ১৬৫ ডলার।
নতুন প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কম আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমান ৩৮০ ডলারের রিডিউসড ফি বাতিল করার পরিকল্পনা।
বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীরা পূর্ণ ফি না দিয়ে এই কম ফিতে N-400 আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি আর্থিক অসচ্ছলতার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু আবেদনকারী পুরো ফি মওকুফের সুবিধাও পান।
প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে N-400 এবং N-336-এর ক্ষেত্রে সাধারণ ফি ওয়েভারের সুযোগও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সামরিক সদস্যদের ন্যাচারালাইজেশন ফি মওকুফের ব্যবস্থা বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত N-336 ফর্মের ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান ফির তুলনায় এটিও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বক্তব্য, অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে ফি সমন্বয় করা এবং USCIS-এর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য। সংস্থাটির কার্যক্রমের বড় একটি অংশ আবেদনকারীদের কাছ থেকে পাওয়া ফি দিয়ে পরিচালিত হয়।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, নাগরিকত্বের আবেদন ফি এতটা বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক গ্রিন কার্ডধারীর জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের পথে এগোনো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে কম ফি ও ফি ওয়েভারের সুযোগ কমে গেলে আর্থিকভাবে দুর্বল আবেদনকারীরাই বেশি চাপে পড়বেন।
না।
প্রস্তাবটি ২০২৬ সালের ২৩ জুন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সময় রয়েছে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারে। আবার মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাবে পরিবর্তনও আনা হতে পারে।
তাই বর্তমানে যারা মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের জন্য প্রযোজ্য ফি এখনো আগেরটাই:
অর্থাৎ ১ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি এখনো কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে তবেই নতুন হার কার্যকর হবে।