নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে হঠাৎ ছুরিকাঘাত। মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারালেন ব্যাংক অব আমেরিকার ৩২ বছর বয়সী ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্টি। সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেছিলেন তিনি। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। ঘটনার পর হামলাকারী নারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। ছুটির পর কাজে ফিরেই মর্মান্তিক মৃত্যু এরিন পিয়াচেন্টি ব্যাংক অব […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে হঠাৎ ছুরিকাঘাত। মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারালেন ব্যাংক অব আমেরিকার ৩২ বছর বয়সী ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্টি। সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেছিলেন তিনি। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।
ঘটনার পর হামলাকারী নারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
এরিন পিয়াচেন্টি ব্যাংক অব আমেরিকার বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আইভি লিগ থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ব্যাংক অব আমেরিকা ও ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল।
ঘটনার মাত্র চার দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও ছোট সন্তানের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করেছিলেন এরিন। দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ পাওয়ায় সেখানেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই সেই পরিবারকে ছুঁতে হলো এক ভয়াবহ বাস্তবতা।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিজনারোস। তিনি তিন সন্তানের মা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।
হামলার শুরুতে পামেলা ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর এরিন পিয়াচেন্টিকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় এরিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
এরপর ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পামেলাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলেন। কয়েক মিনিট ধরে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি পুলিশের নির্দেশ মানেননি। বরং কর্মকর্তাদের হত্যা করার হুমকি দেন।
একপর্যায়ে পুলিশ স্টান গান ব্যবহার করে এবং পরে গুলি চালায়। এতে পামেলা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পামেলার ভাই প্যাট্রিক পেরাল্টা জানিয়েছেন, তার বোন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগলেও আগে কখনো তাকে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা যায়নি।
হঠাৎ কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা তারা বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ছুরিকাঘাতে নিহত এরিন পিয়াচেন্টি ও আহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্যাট্রিক।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত মে মাসেও একই এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। ফলে নতুন এই ঘটনা টাইমস স্কয়ারের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।