যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নতুন ভিসা নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত। নীতিটি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে সোমবার এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেনিস সেলর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের একটি […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নতুন ভিসা নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত। নীতিটি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে সোমবার এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেনিস সেলর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পর এ আদেশ আসে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ চার বছর অবস্থান করতে পারতেন। এরপর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হতো। আগের ব্যবস্থায় পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন।
বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময় শেষে নবায়নের সুযোগ থাকলেও আগের নিয়মে একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ ছিল।
চীনা সাংবাদিকদের জন্য বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছিল। তাদের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের ভিসা দেওয়ার এবং একই সময়ের জন্য নবায়নের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল।
মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিয়ম কার্যকর না করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সেলর। আগামী ২ অক্টোবর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
স্থগিতাদেশের পর্যবেক্ষণে নতুন বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। বিচারপতির মতে, দীর্ঘদিনের তুলনামূলক উদার নীতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করার পরিবর্তে ডিএইচএস এমন একটি নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কঠিন করে তুলবে।
বিচারপতি সেলর বলেন, নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ডিএইচএস কর্মকর্তাদের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রাখা হয়নি।
তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্পষ্ট কিছু বিধানের ভিত্তিতে একজন কর্মকর্তা কোনো কারণ না দেখিয়েই কোনো অ-মার্কিন নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারেন। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও ভিসা নবায়ন না হলে প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর আইনি পথ সীমিত হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে সরকারের বা ডিএইচএস কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা সাংবাদিকেরা ভিসা নবায়নে বৈষম্যের শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিচারপতি।
নতুন ভিসা নীতির পক্ষে ডিএইচএস জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছিল। তবে বিচারপতি সেলর এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবি মূলত সীমিত কয়েকটি কাল্পনিক পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান এবং বৈধ অভিবাসনের পথ সংকুচিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবেই এই ভিসা পরিবর্তনকে দেখা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে এসেছেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।