সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
২:৩৭ অপরাহ্ন, ৩ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন অভিবাসন সুবিধায় কড়া যাচাই-বাছাই: ৩৯টি উচ্চ ঝুঁকির দেশের আবেদন পুনর্বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

বিদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার নিয়মাবলীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশনার আলোকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তাজনিত ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবং ভুয়া তথ্য রোধে আবেদনপত্র যাচাইকরণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা বহুগুণে কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের […]

মার্কিন অভিবাসন সুবিধায় কড়া যাচাই-বাছাই: ৩৯টি উচ্চ ঝুঁকির দেশের আবেদন পুনর্বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বিদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার নিয়মাবলীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশনার আলোকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তাজনিত ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবং ভুয়া তথ্য রোধে আবেদনপত্র যাচাইকরণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা বহুগুণে কঠোর করা হয়েছে।

ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, আগের যাচাই প্রক্রিয়া বেশ কিছু বড় ঘাটতি থাকায় উপযুক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষার তোয়াক্কা না করেই অনেক আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছিল। এ কারণেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪১৬আই ও ৩৯ দেশের ওপর বাড়তি নজরদারি

প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জারি করা এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪১৬১ এবং দুটি সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশনের (নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশ) অধীনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:

  • ৩৯টি উচ্চ ঝুঁকির দেশ: জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত বিশ্বজুড়ে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব দেশের অনেক আবেদন আপাতত মুলতবি রেখে নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
  • যেসব ক্যাটাগরিতে প্রভাব: রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum), স্থায়ী রেসিডেন্সি (গ্রিন কার্ড), ডাইভারসিটি ভিসা (DV) এবং অন্যান্য সব অভিবাসনী সুবিধার আবেদনপত্র বর্তমানে পুনরায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

যেভাবে চালানো হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক ও ‘অপারেশন প্যারিস’

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করতে একাধিক নতুন প্রযুক্তি ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি যুক্ত করেছে ইউএসসিআইএস:

  1. অপারেশন প্যারিস (Operation Paris): শরণার্থী ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা আবেদনকারীদের জন্য ‘অপারেশন প্যারিস’ নামে বিশেষ একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর পূর্বসূরি ও পটভূমির ওপর অতিরিক্ত তদন্ত চালানো হচ্ছে।
  2. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বায়োমেট্রিক নজরদারি: আবেদনকারীদের স্যোশাল মিডিয়া কার্যক্রম, ব্যাক ডেটেড আর্থিক তথ্যাবলি, অপরাধের রেকর্ড এবং অতিরিক্ত বায়োমেট্রিক তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে আবেদনকারীকে পুনরায় সরাসরি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হচ্ছে।
  3. স্বয়ংক্রিয় তথ্য সংহতকরণ: পরিচয় নিশ্চিতে উন্নত বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির পাশাপাশি মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা হালনাগাদ অপরাধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসন ডেটাবেজে যুক্ত করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউএসসিআইএসের ব্যাখ্যা

ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে যে, নতুন এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার সততা রক্ষা করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং কেবল উপযুক্ত ও নিরাপত্তা পরীক্ষায় পূর্ণাঙ্গ উত্তীর্ণ ব্যক্তিদেরই অভিবাসনের আইনি সুযোগ দেওয়া।

তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, সমস্ত আবেদনপত্র অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হচ্ছে না। নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত আবেদনগুলো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি করার কাজ ইতিপূর্বে পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতেই ভিসা ও অভিবাসন যাচাই-বাছাইয়ের এই অভূতপূর্ব প্রশাসনিক কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ