সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৩:০০ অপরাহ্ন, ২৬ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদনকারীদের পারিবারিক সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সময় আবেদনকারীদের দাবি করা পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করতে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ব্যবহারের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। এ জন্য ভার্জিনিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনএ ইন্টারন্যাশনালকে এক বছরের জন্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি। ফেডারেল ব্যয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি […]

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদনকারীদের পারিবারিক সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সময় আবেদনকারীদের দাবি করা পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করতে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ব্যবহারের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। এ জন্য ভার্জিনিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনএ ইন্টারন্যাশনালকে এক বছরের জন্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি।

ফেডারেল ব্যয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি গত ১০ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এর আওতায় আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনসের (ইআরও) বিভিন্ন ফিল্ড অফিসে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা সরবরাহ করা হবে।

সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দাবি করা জৈবিক পারিবারিক সম্পর্ক দ্রুত যাচাই করা। বিশেষ করে অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো শিশুর বাবা, মা বা অন্য কোনো আত্মীয় বলে দাবি করলে সেই সম্পর্ক সত্য কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার এই পদ্ধতি আইসিইর জন্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে সংস্থাটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগ এ ধরনের পরীক্ষার একটি পাইলট কার্যক্রম শুরু করে। পরে ২০২২ সালে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১৬টি দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল।

এসব পরীক্ষার মধ্যে ৩০০টির ক্ষেত্রে দাবি করা বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে সীমান্তে পারিবারিক সম্পর্ক যাচাইয়ের ডিএনএ পরীক্ষার দায়িত্ব কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির হাতে যায়। একই উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালে আরও ৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করা হয়েছিল।

নিউজউইকের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিসহ এই কর্মসূচির আওতায় দুই দফায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

তবে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, অনেক অভিবাসী কেন তাদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা পুরোপুরি বুঝতে নাও পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনেটিক তথ্য অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্যের তুলনায় আরও সংবেদনশীল। কারণ এতে শুধু একজন ব্যক্তির সম্পর্কেই তথ্য পাওয়া যায় না; তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও নানা তথ্য জানা সম্ভব।

নিউজউইকের প্রতিবেদনে জর্জটাউন ল স্কুলের সেন্টার অন প্রাইভেসি অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক স্টিভি গ্ল্যাবারসন বলেন, অনেক মানুষ তাদের ডিএনএ কেন সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, তা বুঝতে পারেন না।

নতুন চুক্তির সরকারি নথিতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সম্মতির নিয়ম, তথ্য কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কখন তা ধ্বংস করা হবে কিংবা ভবিষ্যতে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া কোনো পরীক্ষায় দাবি করা জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের প্রক্রিয়াগত সুযোগ থাকবে, সে বিষয়টিও সরকারি নথিতে স্পষ্ট নয়।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আগের নীতিমালা অনুযায়ী, পারিবারিক ডিএনএ পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ভুয়া বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক শনাক্ত করা এবং প্রকৃত পারিবারিক সম্পর্ক নিশ্চিত করা। সরকারের ব্যাখ্যায়, এর আরেকটি লক্ষ্য ছিল প্রকৃত পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা করা।

এদিকে আইসিইর ডিএনএ সংগ্রহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ওয়্যারড জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর হেফাজতে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের ডিএনএ সংগ্রহ করে এফবিআইয়ের জাতীয় ডিএনএ ডেটাবেসে যুক্ত করা হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে পরিবারের মধ্যে জৈবিক সম্পর্ক যাচাইয়ের জন্য দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা এবং অপরাধ তদন্তের জন্য ডিএনএ ডেটাবেসে প্রোফাইল সংরক্ষণ—দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। নতুন চুক্তিটি মূলত অভিবাসন কার্যক্রমে দাবি করা পারিবারিক সম্পর্ক দ্রুত যাচাইয়ের কর্মসূচি সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ