ঘুম থেকে ওঠার পর চায়ে চুমুক দেওয়া, সকালের নাশতা না খেয়ে বের হয়ে যাওয়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো—এসব অনেকের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। লিভার খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করার বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধ […]
ছবি: সংগৃহীত
ঘুম থেকে ওঠার পর চায়ে চুমুক দেওয়া, সকালের নাশতা না খেয়ে বের হয়ে যাওয়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো—এসব অনেকের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লিভার খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করার বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধ ও অ্যালকোহলের বিভিন্ন উপাদান শরীর থেকে অপসারণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। জটিল লিভার রোগের ক্ষেত্রে শুরুতে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তাই দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
ওজন কমানোর চেষ্টা কিংবা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে অনেকে নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেন। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।
রাতের দীর্ঘ বিরতির পর রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে লিভারকে শরীরে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙে প্রয়োজনীয় শর্করা সরবরাহ করতে হয়। তাই সকালে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ওটস, সেদ্ধ ডিম, বাদাম বা চিয়া বীজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকালের খাবারে অতিরিক্ত মিষ্টি বা উচ্চ ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার রাখাও লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মিষ্টি সিরিয়াল, জ্যাম লাগানো পাউরুটি, মাফিন বা প্রক্রিয়াজাত গ্র্যানোলায় বেশি পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকতে পারে।
অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মধু বা অন্য প্রাকৃতিক মিষ্টিকেও অতিরিক্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘুম থেকে উঠেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন, ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে কিছু ভেষজ বা তথাকথিত ‘হারবাল ক্লিনজ’ পণ্য লিভারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একাধিক সাপ্লিমেন্ট একসঙ্গে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যালার্ম বন্ধ করে দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকা এবং সকালে কোনো ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার অভ্যাসও স্বাস্থ্যকর নয়।
লিভারসহ শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম সচল রাখতে ভারী ব্যায়াম করতেই হবে এমন নয়। ঘুম থেকে ওঠার পর ১০ মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ কিছু শরীরচর্চাও দিনের শুরুতে শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
লেবু, ভিনেগার, হলুদ বা রসুন মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন ‘ডিটক্স ড্রিংক’কে অনেকেই লিভার পরিষ্কারের উপায় হিসেবে দেখেন। তবে এসব পানীয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।
লিভার নিজেই শরীরের বর্জ্য ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান প্রক্রিয়াজাত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত ভেষজ উপাদানযুক্ত কোনো পণ্য উল্টো লিভারের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকালের শারীরিক সুস্থতা আগের রাতের জীবনযাত্রার সঙ্গেও সম্পর্কিত। নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো, ঘুমের আগে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া এবং গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ও বিপাকীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের যত্ন নিতে ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট বা তথাকথিত অলৌকিক ‘ডিটক্স’ পণ্যের প্রয়োজন নেই। পরিমিত ও সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলার মতো মৌলিক অভ্যাসই লিভারের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।