সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

ফিচার
৬:১৩ অপরাহ্ন, ৬ নভেম্বর ২০২৬

এনসিপিতে পদত্যাগ ও মতবিরোধের চাপ, নেতৃত্ব পুনর্গঠনেও কাটেনি অস্বস্তি

প্রতিষ্ঠার পৌনে দুই বছরের মধ্যে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব, দেশজুড়ে সাংগঠনিক বিস্তার এবং সহযোগী সংগঠন গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে একই সময়ে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতার পদত্যাগ, বহিষ্কার এবং জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে মতবিরোধ দলটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সর্বশেষ ৫ নভেম্বর দলের যুগ্ম আহ্বায়ক […]

এনসিপিতে পদত্যাগ ও মতবিরোধের চাপ, নেতৃত্ব পুনর্গঠনেও কাটেনি অস্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মিনিটে পড়ুন |

প্রতিষ্ঠার পৌনে দুই বছরের মধ্যে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব, দেশজুড়ে সাংগঠনিক বিস্তার এবং সহযোগী সংগঠন গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে একই সময়ে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতার পদত্যাগ, বহিষ্কার এবং জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে মতবিরোধ দলটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সর্বশেষ ৫ নভেম্বর দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারা ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা দলটিতে যুক্ত হন। দলটির দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয় পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন এবং গণমাধ্যমের আলোচনায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। নারী, শিক্ষার্থী, যুব, ক্রীড়া ও প্রবাসীদের নিয়ে একাধিক সহযোগী সংগঠনও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিক বিস্তারের পাশাপাশি দলটির ভেতরে মতাদর্শগত ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক মতপার্থক্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে মতবিরোধ

এনসিপির ভেতরে মতবিরোধের অন্যতম আলোচিত বিষয় জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা। দলটির একাধিক নেতার পদত্যাগের পেছনে এই সমঝোতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

দলটির এক যুগ্ম সদস্যসচিবের বরাতে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ একসঙ্গে থাকায় এনসিপিতে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের শিবির-সংশ্লিষ্ট অতীত এবং জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে দলের উদারপন্থী অংশের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে দলটি রাজনৈতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে আটকে পড়তে পারে বলেও ওই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে দলের আরেকটি অংশ মনে করে, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে সংসদ ও রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন ছিল। ফলে এই সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে।

পদত্যাগের ধারায় নতুন নাম সামান্তা শারমিন

গত ৫ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তাঁর বক্তব্যে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে আপত্তির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনও ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা দল ছাড়েন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন, ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ ও হাসান আলী; যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ও মুশফিক উস সালেহীন; যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন; আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া; সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল; দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম প্রধান সংগঠক ইমান সৈয়দ এবং কৃষিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আজাদ খান ভাসানী।

নির্বাচনের পরও পদত্যাগ ও সাংগঠনিক বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ মে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে এনসিপির দাবি, তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এর আগে ১৫ মে চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার দেড় ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে চার নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পদ ও মামলা বাণিজ্য এবং নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তাঁরা সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। পরদিন আরও ১৮ জন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাঁদের অভিযোগগুলো দলটির পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

বহিষ্কারও হয়েছে একাধিক নেতা

পদত্যাগের পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দিয়েছে এনসিপি।

২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসীর মাহমুদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৬ মে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর এলাহী কাশ্মিরকে বহিষ্কার করা হয়।

এ ছাড়া উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত ৮ জুলাই গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ শাহকে বহিষ্কার করে দলটি। সর্বশেষ ৭ অক্টোবর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া এবং জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়।

নতুনদের যোগদানেও বাড়ছে দলটির পরিসর

নেতাদের পদত্যাগ ও বহিষ্কারের মধ্যেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

গত ১৯ এপ্রিল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ৪৭ জন নেতা। একই দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সভাপতি রিফাত রশীদ, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক এবং আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শেহরীন সুলতানা ইরাও যোগ দেন।

২৪ এপ্রিল এনসিপিতে যুক্ত হন ঢাকা মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট নির্মাতা নুরুজ্জামান কাফি এবং রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি।

সর্বশেষ ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ এনসিপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি আগে জামায়াতের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে দলটি।

কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, কাউন্সিলের অপেক্ষা

এনসিপির দুই বছর মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। তবে তার আগেই গত ২৩ অক্টোবর ১৯৫ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেন দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

১৬ সদস্যের রাজনৈতিক পর্ষদেও শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিব পদেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। সহযোগী সংগঠন হিসেবে জাতীয় নারী শক্তি, জাতীয় ছাত্র শক্তি, জাতীয় যুবশক্তি, ন্যাশনাল চিকিৎসক অ্যালায়েন্স, ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স ও ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও নির্বাচিত কমিটি গঠনের সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাংলা ট্রিবিউনকে দলের মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত জানিয়েছেন, সময়ের চাহিদা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের যেকোনো সময় কাউন্সিল ও নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হতে পারে।

সংকট নেই, বলছে এনসিপি

দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, এনসিপি একটি ‘রাজনৈতিক ট্রেন’; এখানে অনেকে যোগ দিচ্ছেন, আবার মতবিরোধ হলে যে কেউ চলে যেতে পারেন। তাঁর মতে, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐক্য থাকলেও এনসিপি নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কর্মসূচি পরিচালনা করে। অতীতে বিএনপিও জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এনসিপিতে কোনো সংকট নেই।

দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পদত্যাগের পর তাঁদের সমর্থনে বড় সংখ্যায় অন্য নেতাকর্মীরা দল ছাড়েননি; তাই তাঁদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে এনসিপির সামনে এখন দুটি সমান্তরাল বাস্তবতা—একদিকে সংসদীয় ও সাংগঠনিক পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে রাজনৈতিক অবস্থান, নেতৃত্বের কাঠামো এবং জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য। আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন মতের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হয়, তার ওপর দলটির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ