যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ওপর থেকে ইরানের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।বৃহস্পতিবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, […]
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ওপর থেকে ইরানের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পেজেশকিয়ান জানান, সংলাপ ও কূটনীতি সব সময়ই তেহরানের অগ্রাধিকার ছিল। তবে তার অভিযোগ, অতীতে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দফা ইরানে হামলা চালিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এখন তারা আবারও নতুন হামলার আশঙ্কা করছেন।
তিনি বলেন, “আলোচনা চলার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনিস্ট শাসনগোষ্ঠী ইরানে হামলা চালিয়েছে। আবারও এমন কিছু ঘটতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর কোনো ভরসা রাখতে পারছে না ইরান।”
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জুনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রথম যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় আবারও হামলার মুখে পড়ে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এর পর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
পাকিস্তানের অনুরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি। এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরে আলোচনা করার ইরানি প্রস্তাবও ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেন।
ফোনালাপে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা এবং এর ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে তৈরি ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংলাপের মাধ্যমেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।